পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই একের পর এক পদক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার আরও বড় পদক্ষেপ নিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনতে সল্টলেকে দলের কার্যালয়ে জনতার দরবার বসালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ সোমবার সকাল থেকেই কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন বহু মানুষ। 

জানা গিয়েছে, নিজেদের অভাব-অভিযোগ, দাবি ও সমস্যার কথা জানাতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেখানে আসেন সাধারণ মানুষ।

তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ছিলেন চাকরিপ্রার্থীরাও। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে লিখিত আবেদন তুলে দিয়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা জানান। তাঁদের দাবি, পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের স্বচ্ছভাবে নতুন করে নিয়োগ করা হোক। বহুদিন  ধরে এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। নতুন সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলেই আশাবাদী চাকরিপ্রার্থীরা।

‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং অনশনকারী মঞ্চের প্রতিনিধিরা জানান, পরীক্ষার ওএমআর প্রকাশ এবং এর ভিত্তিতে প্রাপ্ত নম্বর, অ্যাকাডেমিক এবং ন্যূনতম ১০ নম্বরের ভিত্তিতে নিয়োগ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। আদালতের নির্দেশের পরেও এখনও পর্যন্ত নতুন করে নিয়োগ হয়নি। দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বচ্ছ নিয়োগের ব্যবস্থা করার আবেদন জানানো হয়েছে প্রার্থীদের তরফে। যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং অনশনকারী মঞ্চের সদস্যদের দাবি, আগের মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতেন না। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী দেখা করছেন সেটাই অনেক বড় ব্যাপার।

 

শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, এদিন জনতার দরবারে হাজির হন পুলিশের চাকরিপ্রার্থীরাও। বিশেষ করে মহিলা প্রার্থীরা নিয়োগে উচ্চতার নির্ধারিত মাপকাঠি নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমানে যে উচ্চতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে তা পশ্চিমবঙ্গের বহু মেয়ের নাগালের বাইরে। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে উচ্চতার নিয়মে পরিবর্তন আনা হোক, যাতে আরও বেশি সংখ্যক মহিলা পুলিশে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বক্তব্য মন দিয়ে শোনেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা আশাবাদী এই জনতার দরবারে তাঁদের সমস্যার সমাধান হবে।