পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে পনেরো বছর পর ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই পালাবদলের পরপরই ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে ফাটল যেন আরও চওড়া হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের কাজের ধরন এবং ভোটকুশলী সংস্থার আধিপত্য নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে বারাসত সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে লেখা তাঁর একটি বিস্ফোরক পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ওই চিঠিতে তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও, তাঁর আক্রমণের তির যে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের দিকে, তা একেবারে স্পষ্ট।
আরও পড়ুন:
গত ২১ মে লেখা ওই পদত্যাগপত্রে কাকলি ঘোষ দস্তিদার রাজ্যে সাম্প্রতিক অপরাধ ও দুর্নীতির ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ও আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে এবং রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বারাসত জেলায় দলের হতাশাজনক ফলাফলের নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিয়েই তিনি সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছেন। তবে পদত্যাগের কারণ হিসেবে শুধুমাত্র নির্বাচনী ব্যর্থতাই নয়, চিঠির শেষাংশে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তাতেই লুকিয়ে রয়েছে আসল ক্ষোভ। নাম না করে আইপ্যাককে চরম কটাক্ষ করে তিনি লিখেছেন, ভুঁইফোঁড় সংস্থা দিয়ে কঠিন কাজ হয় বলে তাঁর মনে হয় না।
দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিগত দিনের মতো পুরনো ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের নিয়ে কাজ করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।আরও পড়ুন:
দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্দরে নতুন বনাম পুরনো শিবিরের যে চাপা লড়াই চলছিল, ক্ষমতা হারানোর পর সেটাই এবার প্রকাশ্যে বিদ্রোহের আকার নিচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। জেলা তৃণমূল সূত্রের খবর, বারাসত কেন্দ্রে দলের পরাজিত প্রার্থী সব্যসাচী দত্ত একেবারেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পছন্দের তালিকায় ছিলেন না। তিনি অন্য কোনও পুরনো ও বিশ্বস্ত মুখকে প্রার্থী হিসেবে চাইলেও, শীর্ষ নেতৃত্ব বা ভোটকুশলীদের রিপোর্ট সেই মতামতকে গ্রাহ্য করেনি। এর পাশাপাশি, দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকেও বিভিন্ন নীতিগত বিষয় নিয়ে তাঁকে সরব হতে দেখা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট এবং সম্প্রতি তাঁকে 'ওয়াই ক্যাটাগরি' নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে বিস্তর জল্পনা তৈরি হয়েছিল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তৃণমূলের অন্দরে কর্পোরেট স্টাইলে দল পরিচালনার বিরুদ্ধে পুরনো লড়াকু নেতাদের এই ক্ষোভ আগামী দিনে ঘাসফুল শিবিরের ভবিষ্যৎ কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।