পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ২০২০ সালে দিল্লির ভয়ংকর গোষ্ঠীসংঘর্ষ চলাকালীন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) আধিকারিক অঙ্কিত শর্মাকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় প্রাক্তন আপ নেতা তাহির হুসেন এবং তাঁর চার সঙ্গীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত। শুক্রবার দিল্লির করকরডুমা আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক প্রবীণ সিংহ এই সাজা ঘোষণা করেছেন। এর আগে গত ১৩ জুলাই আদালত তাহির ছাড়াও এই ঘটনায় জড়িত নাজিম, কাশিম, জাভেদ এবং আনাসকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
আরও পড়ুন:
সাজা ঘোষণার সময় বিচারক অপরাধীদের বর্বরতার তীব্র সমালোচনা করে জানান, এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে, তা দোষীদের পরিবারের একমাত্র রোজগেরে হওয়ার আর্জিকেও ছাপিয়ে যায়। পশুর মতো করে মৃতদেহটি টেনে নিয়ে গিয়ে নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন এবং এই ঘটনাকে অত্যন্ত বমিভাব উদ্রেককারী ও অসুস্থ মানসিকতার প্রতিফলন বলে আখ্যা দেন।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে অপরাধীদের ফাঁসির আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাহিরের আইনজীবী সওয়াল করেন যে এটি 'বিরলের মধ্যে বিরলতম' ঘটনা নয় এবং জেলে তাঁর মক্কেলের আচরণ সন্তোষজনক। দুই পক্ষের সওয়াল শুনে আদালত জানায়, মৃত্যুদণ্ডই শেষ পথ নয়, এদের শৃঙ্খলাপরায়ণ করা সম্ভব। তবে খুন এবং হিংসা ছড়ানোর দায়ে সাজা পেলেও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে তাহিরকে রেহাই দিয়েছে আদালত।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণার পর তাহির হুসেন আদালতের এই রায়কে পূর্বনির্ধারিত বা 'ম্যাচ ফিক্সড' বলে দাবি করেছেন এবং ন্যায়বিচারের আশায় তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বেরিয়ে নিখোঁজ হন অঙ্কিত শর্মা। পরে একটি নর্দমা থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশি রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, হিংসার সময় তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়ে ৫১ বার কোপানো হয়েছিল। পরের দিন অঙ্কিতের বাবা রবীন্দ্র কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হয়। সেই বছর দিল্লির ওই হিংসায় মোট ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল।