পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ই-২০ পেট্রল নিয়ে দেশজুড়ে নানা বিতর্কের মাঝেই এই বিষয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করি। রাজ্যসভায় এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো এই বিশেষ জ্বালানি ব্যবহারের ফলে পুরোনো মডেলের কিছু গাড়ির নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ২০০৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে তৈরি হওয়া বিএস-৩ পর্যায়ের গাড়িগুলিতে ইথানলের রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে রবারের পাইপ, সিল এবং গ্যাসকেটের মতো অংশগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সিপিআই সাংসদ এএ রহিমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন:
তবে এতে পুরোনো গাড়ির মালিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই সমস্যার জন্য গাড়ির ইঞ্জিনে বড় মাপের কোনও পরিবর্তনের একেবারেই প্রয়োজন নেই। সাধারণ রুটিন সার্ভিসিং করানোর সময়েই মেকানিককে দিয়ে খুব সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত রবারের অংশ ও গ্যাসকেট বদলে নেওয়া যায়। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড, দেরাদুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পেট্রোলিয়াম, সিয়াম এবং এআরএআই-এর মতো সংস্থাগুলির যৌথ সমীক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ই-২০ জ্বালানি ব্যবহারের ফলে পুরোনো গাড়ির সাধারণ কার্যক্ষমতা, স্টার্ট নেওয়ার ক্ষমতা কিংবা প্লাস্টিক ও ধাতব যন্ত্রাংশে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।
আরও পড়ুন:
এর পাশাপাশি ই-২০ পেট্রল ব্যবহারের কারণে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠছিল, সরকার সেটিও খণ্ডন করেছে। জানানো হয়েছে, মাইলেজ কমা বা বাড়া শুধুমাত্র জ্বালানির উপর নির্ভর করে না। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে চালকের গাড়ি চালানোর অভ্যাস, সঠিক সময়ে নিয়মিত সার্ভিসিং করানো, ইঞ্জিনের অয়েল ও এয়ার ফিল্টার পরিবর্তন, টায়ারের হাওয়া সঠিক রাখা এবং এসির ব্যবহারের পরিমাণের উপর। মূলত অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা কমাতে, পরিবেশের কার্বন নির্গমন রোধ করতে এবং আখ চাষিদের আর্থিকভাবে আরও স্বাবলম্বী করতেই দেশজুড়ে পর্যায়ক্রমে ই-২০ পেট্রল চালুর উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধীরা পুরোনো গাড়ির মালিকদের এই বিষয়ে আগে থেকে সচেতন না করার অভিযোগ তুললেও, সরকার দাবি করেছে যে বিস্তৃত গবেষণায় এই জ্বালানি ব্যবহারের ফলে গাড়ির স্থায়ী বা বড়সড় কোনও ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।