উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: বারুইপুরের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বিনোদন কেন্দ্র হলো আরণ্যক বনভোজন উদ্যান। বহু মানুষ অবসর যাপনের জন্য এই চিড়িয়াখানায় ভিড় জমান। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও বিলুপ্তপ্রায় অনেক জীবজন্তু রাখা হতো। কিন্তু সেই উদ্যান থেকেই এবার পশু পাচারের গুরুতর ও বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

বারুইপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আদি গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই আরণ্যক বনভোজন উদ্যানটি মূলত বারুইপুর পুরসভার তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এই উদ্যানে আগে ১৩টি ময়ূর, একাধিক কচ্ছপ, টিয়া পাখি এবং প্রচুর বিদেশি প্রজাতির পাখি ছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, বর্তমানে সেখানে একটি ময়ূর বা বিদেশি পাখিও অবশিষ্ট নেই। বাকি সব পাখি ও কচ্ছপ বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, যখন বারুইপুর পশ্চিম ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী উদ্যানে গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) অতীশ বিশ্বাস এবং বারুইপুর থানার আইসি শান্তনু মিত্রের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুলিশ তিনজনকে আটক করে।

ধৃতদের মধ্যে একজন দাবি করেছে যে, একটি ময়ূর মারা যাওয়ার পর সেটিকে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। তবে জাতীয় পাখির মৃত্যুর পর কেন বনদপ্তরকে জানানো হলো না এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। পশু পাচার সংক্রান্ত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বারুইপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গৌতম চক্রবর্তী।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে আরণ্যক কর্মী গোপাল সর্দার জানান, দশটা ময়ূর মারা গেছে। তিনি বলেন, খাবার দিয়ে চলে গিয়েছিলাম, সকালে এসে দেখি সেগুলো মরে পড়ে আছে।

একদিন চারটি এবং অন্য একদিন দুটি ময়ূর মারা গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, বারুইপুর পশ্চিম এক নম্বর বিজেপির মণ্ডলের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলে বলেন, এরা পশুপাখি চোর এবং একটি বেআইনি পশু পাচার চক্র এখানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কাউন্সিলররা এই উদ্যান চালাতেন। যেখানে ১৩টি ময়ূর ছিল, তা রাতারাতি গায়েব হয়ে গেল। পুরসভা দাবি করছে বাজ পড়ে ময়ূরগুলো মারা গেছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।