পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কোনো নির্বাচনে জয়ী না হয়েও কীভাবে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে একজন ব্যক্তি মন্ত্রিপদে বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে বিহার সরকারের কাছে জবাব তলব করল সুপ্রিম কোর্ট। বিহারের পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী দীপক প্রকাশের পদ ধরে রাখার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একটি আবেদনের শুনানিতে বৃহস্পতিবার এই তীব্র প্রশ্ন তোলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত। বিষয়টিকে সাংবিধানিক আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এটি একটি বিশুদ্ধ আইনি প্রশ্ন। একজন ব্যক্তি কোনো হাউসের সদস্য না হয়েও কীভাবে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে মন্ত্র পদে বহাল থাকেন, তা রাজ্য সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে।
” শীর্ষ আদালত এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আগামী ৪ আগস্ট জরুরি ভিত্তিতে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।আরও পড়ুন:
মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দু বিহারের পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী দীপক প্রকাশ। সংবিধানের ১৬৪(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য না হয়েও কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৬ মাসের জন্য মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হতে পারেন। তবে ওই ৬ মাসের মধ্যে তাঁকে রাজ্য আইনসভার যেকোনো একটি কক্ষের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসতে হয়, অন্যথায় মন্ত্রিত্ব পদ বাতিল হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:
দীপক প্রকাশের ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে আইনি প্রশ্ন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের মন্ত্রিসভায় দীপক প্রকাশ অনির্বাচিত অবস্থায় ৪ মাস ২৬ দিন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬-এ নীতিশ কুমার পদত্যাগ করলে তাঁর সেই মেয়াদ শেষ হয়। এর পর ২২ দিন তিনি কোনো সরকারি বা মন্ত্রী পদে ছিলেন না। গত ৭ মে সম্রাট চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নতুন সরকার গঠন করলে দীপক প্রকাশকে পুনরায় অনির্বাচিত থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রিপদে শপথ দেওয়া হয়। সংযুক্তভাবে দেখলে তিনি ইতিধ্যেই ছয় মাসের বেশি সময় ধরে অনির্বাচিত অবস্থায় মন্ত্রিত্ব সামলাচ্ছেন, যদিও একক মেয়াদে পর পর ৬ মাস পূর্ণ হয়নি।