পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার নির্বাচনে কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা আবেদনে কোনো হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এএস চান্দুরকারের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন সংবিধানের ৩২৯ নম্বর অনুচ্ছেদ আদালতের হস্তক্ষেপে আইনি বাধা সৃষ্টি করে। ফলে এই আবেদন বর্তমানে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আদালত জানিয়েছে, নটরাজন যদি মনে করেন তবে তিনি যথাযথ নিয়ম মেনে নির্বাচনী আবেদন দায়ের করে তাঁর দাবি উত্থাপন করতে পারেন।

আদালতের শুনানিতে কংগ্রেস নেত্রীর পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি।

তাঁর প্রধান দাবি ছিল যে, রিটার্নিং অফিসার মনোনয়ন বাতিল করার ক্ষেত্রে আইনগতভাবে গুরুতর ভুল করেছেন। সিংভি আর্জি জানান, সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে যেন এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। কিন্তু বেঞ্চ সাফ জানায়, যদি আদালত কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে এবং অন্য ক্ষেত্রে না করে, তবে তা সংবিধানের ৩২৯ নম্বর অনুচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হবে। নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আইনে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই পথেই এগোতে হবে।

উল্লেখ্য যে, গত ৯ জুন রিটার্নিং অফিসার অরবিন্দ শর্মা কংগ্রেস নেত্রী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন।

অভিযোগ ছিল, তেলেঙ্গানার একটি মামলার তথ্য গোপন করে তিনি হলফনামায় বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। সিংভি আদালতে যুক্তি দেন যে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিধান অনুযায়ী শুধুমাত্র সেই সব ফৌজদারি মামলার তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক, যেখানে আদালত চার্জ গঠন করেছে। নটরাজনের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তিনি কেবল একটি নোটিশ পেয়েছিলেন এবং মামলাটি প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। আইনজীবীর দাবি, আদালত অভিযোগটি গ্রহণই করেনি, ফলে আইনের চোখে সেটিকে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা বলা যায় না। এই কারণে তথ্য গোপনের অভিযোগটি ভিত্তিহীন।

সিংভি আরও বলেন, মনোনয়ন বাতিল করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী এবং এর মাধ্যমে প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নটরাজন নির্বাচনে জয় দাবি করছেন না, তিনি কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ চাইছেন। এছাড়া, যে ব্যক্তিগত অভিযোগের ভিত্তিতে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, সেটি মূলত অন্য এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ। নটরাজনকে সেখানে অভিযুক্ত করা হয়েছে কারণ তিনি তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের দায়িত্বে থাকার সময় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। সিংভির যুক্তি ছিল, ঘটনাটি ২০২২ সালের, অথচ নটরাজন তেলেঙ্গানার দায়িত্ব পান অনেক পরে। ফলে এই মনোনয়ন বাতিল প্রক্রিয়ার ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল।