সই জালিয়াতি মামলায় দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সিআইডি-র সদর দপ্তর ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে যান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে সরাসরি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। সূত্রের খবর, সেখানে দু’জনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও হয়েছে।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেকের দেওয়া বিভিন্ন উত্তরে সন্তুষ্ট নন সিআইডি আধিকারিকরা।
সেই কারণেই আগামী ১৪ জুন, দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে ফের হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই নতুন তলবের নোটিস তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, সন্ধ্যা ৬টার আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছানোর পর প্রথমে ছয়-সাত জন আধিকারিক তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে সিআইডির এডিজি সুপ্রতিম সরকারের উপস্থিতিতে প্রায় ১০ জন আধিকারিকের একটি দল তাঁকে ম্যারাথন জেরা করে।
তদন্তকারীদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় অভিষেককে। বিশেষ করে ৬ মে-র বৈঠকে উপস্থিত না থেকেও কীভাবে বিভিন্ন বিধায়কের স্বাক্ষর সংশ্লিষ্ট চিঠিতে এল, কারা সেই সই করেছেন, কেন করেছেন এবং রেজোলিউশন বুক কোথায়—এই ধরনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।আরও পড়ুন:
রাত ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে যান সিআইডির এডিজি সুপ্রতিম সরকার। কিছুক্ষণ পরই সেখান থেকে বেরিয়ে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সংবাদমাধ্যমের কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই তিনি কালীঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন।উল্লেখ্য, এই মামলায় এর আগে পরপর তিনবার সিআইডির তলব এড়িয়ে গিয়েছিলেন অভিষেক। পরে কলকাতা হাই কোর্টে রক্ষাকবচের আবেদন করেন তিনি। সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ তদন্তে সহযোগিতা না করার বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলেন। আদালতের নির্দেশে ২১ দিনের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পেলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।
আরও পড়ুন:
সেই নির্দেশ মেনেই এদিন ভবানী ভবনে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।