পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দলের অন্দরে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়ে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার পরেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল যে, কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু তাই নয়, মমতাকে ইন্ডিয়া জোটের বড় কোনো পদে বসানো হতে পারে বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল। তবে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সেই যাবতীয় জল্পনা কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে।

কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে কথাবার্তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তা একেবারেই ভিত্তিহীন।

বৃহস্পতিবার দিল্লির ইন্দিরা ভবনে কংগ্রেসের সব প্রদেশ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানে দেশের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, নিট পরীক্ষা কেলেঙ্কারি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে সাংবাদিক বৈঠক করে কেসি বেণুগোপাল দাবি করেন যে, এদিন ইন্ডিয়া জোটের অংশ হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।

একই সুর শোনা গেছে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের গলায়। তাঁর মতে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে খবর দেখানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো।

সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ৪০ বছরের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেক বিষয়ে কথা হলেও, যে বিষয় নিয়ে রটনা করা হচ্ছে সেই সংক্রান্ত কোনো আলোচনা হয়নি। উল্লেখ্য, বুধবার কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকের জন্য সমস্ত রাজ্যের প্রদেশ সভাপতিদের ডেকে পাঠালে সেই জল্পনা আরও উসকে ওঠে। কিন্তু বৃহস্পতিবারের সেই বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রসঙ্গটি ওঠেনি।

কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে যে, ওই বৈঠকে মূলত কংগ্রেসের নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কেসি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, মূল্যবৃদ্ধি সহ কেন্দ্রের একাধিক জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে কংগ্রেস সারা দেশজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলনে নামছে। এই আন্দোলনের বিস্তারিত কর্মসূচি ও রূপরেখা সম্পর্কে পরবর্তীতে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।