পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনমতের ভিত্তিতে জয়ী হয়ে বাংলায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এবার সরকার বিধানসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিধানসভা সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিধানসভাকে সম্পূর্ণভাবে পেপারলেস বা কাগজবিহীন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যের সংসদীয় ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
পাশাপাশি, বিধায়কদের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হবে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস।আরও পড়ুন:
কেন এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, সেই বিষয়ে স্পিকার জানিয়েছেন যে, এবারের বিধানসভায় বিজেপির ২০০ জন বিধায়ক নতুন মুখ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই, একজন বিধায়কের প্রকৃত কাজ এবং দায়িত্বের পরিধি সম্পর্কে অনেকে এখনো সম্পূর্ণ অবগত নন। এই বিধানসভা সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করতে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে লোকসভা এবং উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থান বিধানসভার অভিজ্ঞ স্পিকারদের আমন্ত্রণ জানানো হবে, যাতে তাঁরা তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান নবীন বিধায়কদের সাথে ভাগ করে নিতে পারেন।আরও পড়ুন:
স্পিকার আরও জানিয়েছেন যে, খুব শীঘ্রই বিধানসভায় আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হবে। এই পেপারলেস ব্যবস্থার মাধ্যমে বিধায়করা অত্যন্ত দ্রুত এবং সরাসরি প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পেয়ে যাবেন। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, বিধানসভার সমস্ত কার্যপদ্ধতি সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ দেখানো হবে।
বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভার উদাহরণ টেনে তিনি বলেছিলেন যে, এর ফলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বিধানসভায় কী ধরনের আলোচনা হচ্ছে তা জানতে পারবেন। নিজের এলাকার বিধায়কদের ভূমিকা, বিরোধীদের অবস্থান এবং সরকারের কাজের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে জনগণ সরাসরি নজর রাখতে পারবেন।আরও পড়ুন:
ঐতিহাসিক বিধানসভা ভবনে বাজেট অধিবেশনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনগুলো লাইভ দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। অতীতের সমস্ত তিক্ততা ভুলে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বিধানসভার কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এই বিধানসভা সংস্কার কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। বিধানসভায় কেবল বিরোধিতার মানসিকতা নয়, বরং বিরোধী দলের সুস্থ অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে, এমন বার্তাই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার স্পিকার রথীন্দ্র বোসও সেই একই বার্তার পুনরাবৃত্তি করে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন।