উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাড়ি ও কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ও ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে স্ট্রিট লাইট, ত্রিপল, সিমেন্টের বস্তা, বালতি এবং ব্লিচিং পাউডার-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সমস্ত মালপত্র গোপনে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই উত্তেজিত বাসিন্দারা ডিম ছুঁড়ে বিক্ষোভ দেখান এবং চোর চোর স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
বর্তমানে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চন্দ্রা ঘোষাল, এর আগে এই পদে ছিলেন তাঁর স্বামী সৌমেন মোহন ঘোষাল।আরও পড়ুন:
সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি দেবপ্রসাদ চক্রবর্তী অভিযোগ করেছেন যে, সাধারণ মানুষের তীব্র প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও এই সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বেআইনিভাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল এবং তা মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই ওয়ার্ডে তোলাবাজি ও দুর্নীতির কারবার চলছিল। বিজেপি কর্মী নিতাই মজুমদার দাবি করেছেন যে, সরকারি প্রকল্পের কাজে যুক্ত ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন নেওয়া হতো এবং কমিশন দিতে অস্বীকার করলে কাউকে কাজ করতে দেওয়া হতো না।
এই অব্যবস্থার কারণে এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।আরও পড়ুন:
এলাকাবাসীদের আরও অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি শৌচালয় দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনও চালু করা হয়নি এবং ওয়ার্ডের সামগ্রিক জলনিকাশি ব্যবস্থাও পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। যদিও এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কাউন্সিলার চন্দ্রা ঘোষাল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ইতিমধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার হওয়া সমস্ত সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।