পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: চলন্ত ট্রেনে সফরের সময় আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের কামরাকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ট্রেনটি ফিরোজাবাদ জেলার মাকখানপুর এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎই কয়েকটি পাথর ট্রেনের একটি নির্দিষ্ট কামরার দিকে ধেয়ে আসে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেই কামরাতেই ছিলেন মোহন ভাগবত। এই হামলায় জানালার বাইরের কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তবে আরএসএস প্রধানের কোনো শারীরিক আঘাত লাগেনি।
ঘটনার পরপরই রেল পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ইতিমধ্যেই এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিলেন মোহন ভাগবত। রেল পুলিশ জানিয়েছে, মোহন ভাগবত স্বর্ণ শতাব্দী এক্সপ্রেসের ই-১ কোচে ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে ট্রেনটি ফিরোজাবাদ জেলার মাকখানপুর এলাকার কাছে পৌঁছালে আচমকা কয়েকটি পাথর ট্রেনের একটি নির্দিষ্ট কামরা লক্ষ্য করে ছোড়া হয়। পাথরের আঘাতে জানালার বাইরের কাচ ভেঙে যায়। ঘটনার সময় সংঘপ্রধান ওই জানালার বিপরীত দিকে বসে থাকায় তিনি কোনো আঘাত পাননি।
তবে এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাথর নিক্ষেপের খবর পাওয়ার পর ট্রেনটি পরবর্তী স্টেশনে কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত পুরো কামরা এবং ট্রেনের অন্যান্য অংশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর ট্রেনটি পুনরায় দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। পরে মোহন ভাগবত নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছন।আরও পড়ুন:
প্রাথমিক তদন্তে রেল পুলিশের অনুমান, মোহন ভাগবত যে কামরায় ছিলেন, সেই কামরাটিকেই লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছিল।
সেই কারণেই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার মূল উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে অন্য কোনো বড় চক্রান্ত বা অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মোহন ভাগবতের ট্রেনযাত্রার সময় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তখনও উত্তরপ্রদেশে তাঁর যাত্রাপথে একটি ট্রেনের কামরায় পাথর ছোড়া হয়েছিল এবং জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরপর দুইবার একই ধরনের ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মোহন ভাগবত দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সুরক্ষা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। তাই তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন দুষ্কৃতী কার্যকলাপ নাকি কোনো সুপরিকল্পিত হামলা, সেই দিকটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন।