উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে এক ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক সহিংসতা ও অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শহরে বসবাসকারী প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আতঙ্কে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জুন। বেলফাস্টের বাসিন্দা স্টিফেন ওগিলভিকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় সুদান থেকে আসা এক অভিবাসীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

হামলায় আহত স্টিফেন একটি চোখ হারিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রথমে রাস্তাঘাট, দোকানপাট, গাড়ি ও বাসে আগুন লাগানো হলেও পরে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে অভিবাসীদের বাড়িঘর। প্রথম রাতেই অন্তত ১৩টি বাড়ির বাসিন্দাদের বের করে দিয়ে সেগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশি পরিবারগুলোও। আক্রান্তদের মধ্যে একজন আব্দুল আলিম জানান, রাতের দিকে ২৫ থেকে ৩০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। বর্তমানে তিনটি পরিবারের আট সদস্য একটি দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটে আশ্রয় নিয়েছেন।

আব্দুল আলিমের কথায়, “চারদিকে ভয়াবহ পরিস্থিতি। মনে হচ্ছে আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছি।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ ও জলকামান মোতায়েন করা হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় টহলও জোরদার করা হয়েছে। তবে আতঙ্ক এখনও কাটেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ছুরিকাঘাতের ঘটনাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক অসন্তোষ এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উসকানিমূলক প্রচার এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “কোনও ব্যক্তির অপরাধের দায় কোনও নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী বা অভিবাসী সম্প্রদায়ের উপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।” তাঁর মতে, আইনের শাসনের মাধ্যমেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।