১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিতর্কে জর্জরিত কিয়ার স্টারমার, পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ব্রিটিশ রাজনীতি

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কে চরম রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। পরিস্থিতির জেরে তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারোয়ার। গত দুই দিনে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ দুই শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগে এই সংকট আরও গভীর হয়েছে। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লর্ড ম্যান্ডেলসন, যাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন ধনকুবের ও সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে স্টারমার সরকার। পরে সেপ্টেম্বরে ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করা হলেও বিতর্ক থামেনি। শেষ পর্যন্ত তিনি লেবার পার্টি এবং হাউস অব লর্ডস থেকেও পদত্যাগ করেন।

সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে আনাস সারোয়ার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, “এই বিতর্ক সরকারের ইতিবাচক কাজগুলোকে আড়াল করে দিচ্ছে। জনগণের আস্থা ফেরাতে নেতৃত্বে পরিবর্তন প্রয়োজন।” এই সংকটের জেরে সোমবার পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগপ্রধান টিম অ্যালান। এর আগের দিন রবিবার ইস্তফা দেন চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি। সূত্রের মতে, ম্যান্ডেলসন নিয়োগে ভুল পরামর্শ দেওয়ার দায় স্বীকার করেই তাঁদের এই সিদ্ধান্ত। যদিও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্টারমারের পদত্যাগের কোনও পরিকল্পনা নেই। ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেশ বদলের কাজ চালিয়ে যাব।”

আরও পড়ুন: বিহারে পরিযায়ী শ্রমিককে হেনস্থায় উত্তাল বেলডাঙা, ফের জাতীয় সড়ক অবরোধ

দলের অন্দরে অসন্তোষ থাকলেও চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস, উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এবং অ্যাঞ্জেলা রেনার প্রকাশ্যে স্টারমারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক কটাক্ষ করে বলেন, সরকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের দাবি তোলা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল আমেরিকা, রাস্তায় লক্ষ লক্ষ মানুষ

আরও পড়ুন: ডাবল ইঞ্জিনের দিল্লিতে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের চেষ্টা, উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে পুনের হাসপাতালে ভর্তি শরদ পাওয়ার, ‘বুকে সংক্রমণ’ জানাল চিকিৎসক

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিতর্কে জর্জরিত কিয়ার স্টারমার, পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ব্রিটিশ রাজনীতি

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কে চরম রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। পরিস্থিতির জেরে তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারোয়ার। গত দুই দিনে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ দুই শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগে এই সংকট আরও গভীর হয়েছে। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লর্ড ম্যান্ডেলসন, যাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন ধনকুবের ও সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে স্টারমার সরকার। পরে সেপ্টেম্বরে ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করা হলেও বিতর্ক থামেনি। শেষ পর্যন্ত তিনি লেবার পার্টি এবং হাউস অব লর্ডস থেকেও পদত্যাগ করেন।

সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে আনাস সারোয়ার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, “এই বিতর্ক সরকারের ইতিবাচক কাজগুলোকে আড়াল করে দিচ্ছে। জনগণের আস্থা ফেরাতে নেতৃত্বে পরিবর্তন প্রয়োজন।” এই সংকটের জেরে সোমবার পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগপ্রধান টিম অ্যালান। এর আগের দিন রবিবার ইস্তফা দেন চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি। সূত্রের মতে, ম্যান্ডেলসন নিয়োগে ভুল পরামর্শ দেওয়ার দায় স্বীকার করেই তাঁদের এই সিদ্ধান্ত। যদিও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্টারমারের পদত্যাগের কোনও পরিকল্পনা নেই। ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেশ বদলের কাজ চালিয়ে যাব।”

আরও পড়ুন: বিহারে পরিযায়ী শ্রমিককে হেনস্থায় উত্তাল বেলডাঙা, ফের জাতীয় সড়ক অবরোধ

দলের অন্দরে অসন্তোষ থাকলেও চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস, উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এবং অ্যাঞ্জেলা রেনার প্রকাশ্যে স্টারমারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক কটাক্ষ করে বলেন, সরকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের দাবি তোলা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল আমেরিকা, রাস্তায় লক্ষ লক্ষ মানুষ

আরও পড়ুন: ডাবল ইঞ্জিনের দিল্লিতে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের চেষ্টা, উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস