পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যে পালাবদলের পর শিক্ষাক্ষেত্রে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে তৎপর হয়েছে আরএসএসের শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। সংগঠনের দাবি, গত এক বছরে পশ্চিমবঙ্গে তাদের সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে সদস্য সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক সাড়া মিলছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রায় দেড় লক্ষ সদস্যের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে তাদের প্রভাব ক্রমশ বেড়ে চলেছে।
তবে সদস্য সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন সদস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। সংগঠনের নেতৃত্বের মতে, শুধুমাত্র সুযোগ বুঝে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে কেউ যাতে সংগঠনের অংশ হতে না পারেন, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে। সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছে, অতীতে অন্য কোনও শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা বা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেখানে কাজ করা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু যাঁরা শিক্ষাঙ্গনে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বা দুর্নীতির অভিযোগে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং সক্রিয় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা নিয়েছেন, তাঁদের সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নেওয়া হবে।আরও পড়ুন:
সংগঠনের বিদ্যালয় শিক্ষা বিভাগের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিক বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এই সংগঠন শিক্ষার মানোন্নয়ন, যোগ্য নাগরিক গঠন এবং ভারতীয় সংস্কৃতিভিত্তিক শিক্ষাচিন্তার প্রসারে কাজ করে আসছে।
পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়াও তুলে ধরা হচ্ছে। তাঁর দাবি, গত বছর সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারের কাছাকাছি ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪০ হাজারে পৌঁছেছে। বিদ্যালয়গুলিতে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক শিক্ষক সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন বলে তিনি জানান। সংগঠনের আশা, বছরের শেষে সদস্য সংখ্যা দেড় লক্ষের গণ্ডি স্পর্শ করবে।সংগঠনের নেতৃত্বের বক্তব্য, শুধু কর্মক্ষেত্রের দাবি আদায়ের মধ্যেই তাদের কাজ সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক সংস্কার, নতুন শিক্ষানীতির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি, পক্ষপাত ও বঞ্চনা থেকে মুক্ত করাও তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।