তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে মুখ খুললেন দলের বর্ষীয়ান নেতা অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট। পরিষদীয় দলের পর সংসদীয় দলেও ভাঙনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিদ্রোহী সাংসদ-বিধায়কদের পদক্ষেপকে তিনি অন্যায় বলে মনে করছেন না। তাঁর কথায়, “ওঁরা কোনও খারাপ কাজ করেননি। বিজেপিতে যাননি, আলাদা একটি ফ্রন্ট তৈরি করেছেন মাত্র।”

এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

তবে অনুব্রত স্পষ্ট করে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আবেগ ও শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে। তিনি বলেন, “দিদিকে দেখে খুব কষ্ট হয়। শুধু আমি নই, যাঁরা দল ছেড়েছেন বা দূরে গিয়েছেন, তাঁরাও বলবেন— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই আমরা আছি।”

দিল্লিতে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক ঘিরে জল্পনা তৈরি হলেও, দল কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি অনুব্রত। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, তৃণমূলের শিকড় কংগ্রেসেই।

তাঁর বক্তব্য, “আমরা সবাই একসময় কংগ্রেসেই ছিলাম। কংগ্রেসকে চটানোটা আমাদের ভুল হয়েছিল। কিন্তু কে কার কথা শোনে!”

একইসঙ্গে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন বীরভূমের এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, দল যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে সাফল্য পেয়েছিল, তখন আইপ্যাকের কোনও ভূমিকা ছিল না।

বরং তাঁদের মতো পুরনো কর্মীরাই দলকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, “আইপ্যাককে আমাদের কোনওদিন প্রয়োজন হয়নি। তারা শুধু টাকা খাওয়ার জন্য এসেছে, এমনকি তথ্য পাচারের অভিযোগও রয়েছে।”

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের নিষ্ক্রিয়তার কথাও স্বীকার করেছেন অনুব্রত। তাঁর কথায়, তাঁকে ভোটের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলেই তিনি সক্রিয়ভাবে প্রচারে নামেননি। পাশাপাশি, জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই তিনি কার্যত সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে রয়েছেন বলেও জানান।