পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: এবার উত্তরপ্রদেশের মেডিকেল কলেজগুলিতে ধর্মান্তর রোধ নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করল প্রশাসন। রাজ্যের সমস্ত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ধর্মান্তর রোধ সেল গঠন করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল। কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (কেজিএমইউ) এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট (পিজিআই)-তে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে উদ্বেগ প্রকাশের পরই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। রাজ্যপাল ও আচার্য আনন্দিবেন প্যাটেল তাঁর আওতাধীন সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করার জন্য নির্দেশ জারি করেছেন।
আরও পড়ুন:
এই নির্দেশ মেনে অটল বিহারী বাজপেয়ী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা সকল কলেজকে অবিলম্বে বিশেষ ধর্মান্তর রোধ সেল গঠন করতে এবং সেই বিষয়ে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে এই সেল গঠন করা বাধ্যতামূলক। এই সেল সন্দেহজনক কার্যকলাপের ওপর সবসময় তীক্ষ্ণ নজরদারি চালানোর পাশাপাশি পড়ুয়া, রেসিডেন্ট ডাক্তার এবং কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করবে। কর্তৃপক্ষের মতে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অভিযোগের বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। প্রশাসনের এই ধর্মান্তর রোধ উদ্যোগটি ক্যাম্পাসের সামগ্রিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।আরও পড়ুন:
একজন ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানিয়েছেন যে, এই সেলগুলো কেবল পর্যবেক্ষণ ইউনিট হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পড়ুয়াদের প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন, আইনি অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করার জন্য নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচিও পরিচালনা করবে।
কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির মুখপাত্র ডা. কে কে সিং জানিয়েছেন, এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে ১০ থেকে ১৫ জন সিনিয়র চিকিৎসকের একটি বিশেষ দল গঠন করা হবে। তাঁরা প্রতি তিন মাস অন্তর রাজ্যপালের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবেন। তিনি আরও বলেন যে, নিয়মিতভাবে সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। বিশেষ করে সেইসব পড়ুয়াদের ওপর নজরদারি চালানো হবে, যারা এই ধরনের পরিস্থিতিতে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকতে পারেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এর লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা এবং ধর্মান্তর রোধ কার্যক্রম সম্পর্কিত যেকোনো অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।