পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ যোগী রাজ্য উত্তরপ্রদেশে এক নির্দেশ ঘিরে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী দাড়ি রাখলেই ২০০ টাকা জরিমানা করা হবে। এছাড়াও রয়েছে একগুচ্ছ বিধি নিষেধ। এমনই ফতোয়া জারি করেছে লখনউয়ের ড. রামমনোহর লোহিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস। অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমন কিছু নিয়ম চাপিয়ে দিয়েছে, যা সরাসরি নিশানায় রেখেছে অস্থায়ী বা আউটসোর্স কর্মীদেরই।

 

জানা যাচ্ছে, শুধু পুরুষদের ক্ষেত্রেই নয়, মহিলাদের ক্ষেত্রেও একগুচ্ছ বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে। মহিলা কর্মীরা চুল না বাঁধলে গুনতে হবে টাকা, এমনই একাধিক নির্দেশে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কর্মীরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, এখানে প্রায় চার হাজারের মতো কর্মী রয়েছেন যারা স্থায়ী নন। তাঁদের ক্ষেত্রেই এই কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, দাড়ি রাখলে বা চুল খোলা রাখলে ২০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

পরিচয়পত্র না পরলে ১০০ টাকা, ডিউটির সময় ঘুমিয়ে পড়া, ধূমপান বা মদ্যপান করলে ৫০০ টাকা জরিমানার পাশাপাশি চাকরি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে। এমনকি সেই ক্ষেত্রে থানায় অভিযোগ দায়ের করার কথাও বলা হয়েছে।

এর পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ছেড়ে চলে গেলে ৫০০ টাকা জরিমানা এবং পূর্বে না জানিয়ে অনুপস্থিত থাকলে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। কম্পিউটার অপারেটরদের জন্য আরও কড়াকড়ি, ডিউটির সময় তাঁদের কাছে মোবাইল ফোন রাখা যাবে না, কাউন্টারে ঢোকার আগে জমা দিতে হবে ফোন। নির্দেশ অমান্য করলে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা, এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এই নির্দেশকে একতরফা ও স্বেচ্ছাচারী  বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অস্থায়ী কর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, একই প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী কর্মীদের জন্য কোনও নিয়ম নেই, অথচ শুধুমাত্র তাঁদের উপরেই চাপানো হচ্ছে জরিমানার বোঝা। আশপাশের বড় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান যেমন কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং সঞ্জয় গান্ধী পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এ এমন নিয়মের কোনও নজির নেই বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, এই নিয়মগুলি শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখার অজুহাতে চাপিয়ে দেওয়া হলেও বাস্তবে তা অস্থায়ী কর্মীদের উপর আর্থিক চাপ বাড়ানোর একটি উপায়। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই নির্দেশ প্রত্যাহার করতে হবে, না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তাঁরা।