পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বুলডোজার অভিযানের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ দেখালেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। বুদ্ধ মূর্তি বাঁচাতে তাঁরা শুয়ে পড়লেন বুলডোজারের সামনে। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের কল্যাণ শহরে একটি সড়ক প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। এনিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং প্রশাসনের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হল। অভিযোগ, প্রস্তাবিত উড়ালপুল নির্মাণের জন্য বুদ্ধভূমি ফাউন্ডেশন চত্বরে বুলডোজার নিয়ে ভাঙতে গেলে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এনিয়ে প্রতিবাদ জানান।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩০ মে ওয়ালধুনির অশোক নগর এলাকায়।
সেখানে পৌরসভার উদ্যোগে ভাঙার কাজ শুরু হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বুলডোজার। মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। প্রশাসনের দাবি, প্রেম অটো ও ভিট্টালওয়াড়ি এলাকার মধ্যে সংযোগকারী একটি চার লেনের উড়ালপুল নির্মাণের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বৌদ্ধ সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই অভিযানের ফলে বুদ্ধ ভূমি ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের বৌদ্ধ স্তূপ, স্মৃতিস্তম্ভ, ভিক্ষুদের বাসস্থানসহ বেশ কিছু ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবীণ বৌদ্ধ ভিক্ষু ভান্তে গৌতমরত্ন মহাস্থবির-সহ একাধিক ভিক্ষু অভিযোগ করেন, প্রশাসন কোনও গ্রহণযোগ্য আইনি নথি প্রদর্শন না করেই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই অভিযান চালিয়েছে। তাঁদের মতে, ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে পবিত্র প্রতীক ও মূর্তি স্থানান্তরের পরিবর্তে তড়িঘড়ি সেগুলি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।আরও পড়ুন:
এবিষয়ে ফাউন্ডেশনের সদস্যদের বক্তব্য, বুদ্ধমূর্তি ও স্মৃতিস্তম্ভ রক্ষার উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকজন ভিক্ষু সরাসরি যন্ত্রপাতির সামনে অবস্থান নেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভিক্ষুরা ভাঙার কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানাচ্ছেন এবং পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। অভিযোগ উঠেছে, অভিযানের সময় কয়েকজন প্রবীণ ভিক্ষুকে আটকে রাখা হয় এবং অন্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, বুদ্ধভূমি ফাউন্ডেশন দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সেখানে ধর্মশালা, উদ্যান, বৌদ্ধ উপাসনাস্থল এবং বিভিন্ন স্মারক গড়ে উঠেছে।
সংগঠনের দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানে একাধিক বুদ্ধমূর্তি, স্তূপ, পঞ্চশীল প্রতীক, মৈত্রেয় বুদ্ধ বিহার, ভিক্ষুদের বাসস্থান, কৃষিজমি ও বহু গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে পৌর প্রশাসন তাদের অবস্থানে অনড়। পৌর কমিশনার অভিনব গোয়েল জানান, জমিতে উড়ালপুল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে তা পৌরসভার নথিভুক্ত সম্পত্তি। তাঁর দাবি, ভাঙার আগে যথাযথ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সরানো গৌতম বুদ্ধের মূর্তি ও অন্যান্য সামগ্রী যথাযথ সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করে পরে ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প নিয়ে যদি কোনও আপত্তি বা উদ্বেগ থাকে, তাহলে আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় প্রতিবাদ চলছে। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষজন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছেন।