পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: এসআইআর ইস্যু ঘিরে রাজ্য রাজনীতি যখন তপ্ত, ঠিক সেই সময় মালদহে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে তৈরি হল উত্তেজনা। জেলার ইংরেজবাজার ব্লকের সাতটারি এলাকায় এদিন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বহু মানুষের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম হঠাৎ করেই বাদ পড়ে গিয়েছে। এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। এমনকি নির্বাচন দফতরের আধিকারিকদের ঘিরেও চলে তীব্র প্রতিবাদ।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জেলা প্রশাসনের একটি দল। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক শেখ আনসার আহমেদ। তিনি গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে জানান, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে একই পরিবারের কারও নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও অন্য সদস্যের নাম বাদ পড়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, নথিপত্রের ঘাটতি বা তথ্যের ভুলের কারণেই এমন সমস্যা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের স্বার্থে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা ফর্ম ৬ পূরণ করে পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইবুনালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বাংলা সহায়তা কেন্দ্র, পঞ্চায়েত দফতর অথবা অনলাইন মাধ্যমেও এই আবেদন জমা দেওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।আরও পড়ুন:
অতিরিক্ত জেলাশাসক আরও জানান, ট্রাইবুনালে অভিযোগ জানানোর জন্য যে ১৫ দিনের সময়সীমা রয়েছে, তা বাড়ানোর প্রস্তাব উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে কোন কারণে কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তা স্পষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানানো হবে বলেও প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রশাসনের এই ঘোষণায় আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে আন্দোলন আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলেই সূত্রের খবর। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটার তালিকায় নাম থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিকার, তাই প্রশাসনের এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।