আবুল খায়েরঃ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ভোট গ্রহণের বাকি আর মাত্র কয়েক ঘন্টা। এখনও পর্যন্ত বাতিল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ২৭ লক্ষের বেশি মানুষের ভোট ভবিষ্যত কী হবে- তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। জোকায় ডায়মন্ড হারবার রোড সংলগ্ন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন ভবনে আপিল ট্রাইব্যুনালের দফতরের কাছে গিয়ে দেখা গেল পুরো এলাকা নিরাপত্তা চাদরে মোড়া। ভবনটি ঘিরে রয়েছে সশস্ত্র কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। রয়েছেন রাজ্য পুলিশের কর্মীরাও। এরইমধ্যে ইতিউতি ঘুরতে দেখা গেল বেশ কয়েকজনকে। যাদের কারোর নিজেদের নাম বাতিল হয়েছে অথবা পরিবারের কেউ হারিয়েছেন ভোটাধিকার।
আরও পড়ুন:
তেমনি একজন বর্ধমানের বাসিন্দা হাসান খান। ভোর বেলায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেনে করে হাওড়া স্টেশনে আসেন। সেখান থেকে বাসে করে এই অফিস চত্ত্বরে এসে পৌঁছেছেন। তিনি জানালেন, ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় আমার বাবা মায়ের নাম ছিল। আমরা চার ভাই বোন।
তার মধ্যে দুই ভাই ও এক বোনের নাম বাতিল হয়েছে। আর সাত দিন পর আমাদের ওখানে ভোট। এই পরিস্থিতিতে কী হবে বুঝতে পারছি না। কেউই কিছু বলতে পারছে না। তাই খবর দেখে এখানে এলাম যদি কিছু সুরহা হয়। তিনি আরও জানান, এই গরমে সেই ভোর বেলায় বেরিয়ে কয়েক’শো টাকা খরচ করে এখানে এসে কিছুই জানতে পারলাম না। সব কাগজপত্র নিয়ে এসেছি। কিন্তু ভিতরেই তো ঢুকতে দিচ্ছে না। এখানে কোনও নির্দেশিকাও টাঙানো নেই। হাসান বলেন, কেন যে নাম বাতিল হল সেটাই কেউ বলতে পারছে না। বিএলও থেকে বিডিও সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরে এখানে এলাম। আমাদের ওখানে অনলাইনে আবেদনের জন্য ক্যাম্প হয়েছে। সেখান থেকেই আবেদন করেছি। সে আবেদন আদৌ এখানে পৌঁছেছে কি না কে জানে? কী যে করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।আরও পড়ুন:
সাঁতারগাছি বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা সাবিরুল আহমদ মোল্লা। কলকাতার একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। একদিনের ছুটি নিয়ে এসেছেন জোকায়। তিনি জানালেন, আমার আব্বা এবং বড় দিদির নাম বাতিল হয়েছে। আব্বা বয়স্ক মানুষ খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমিও কাজে মন দিতে পারছি না। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত যাদের ছাড় দেবে তারা ভোট দিতে পারবে। সেই কথা শুনে কাগজপত্র নিয়ে বিচারকদের কাছে আবেদন নিবেদন করতে এলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখছি চারিদিকে গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।
কাছে যেতেই পুলিশ আমাকে নোটিশ পাঠিয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে কি না জিজ্ঞেসা করলো। আমি ‘না’ বলায় তারা আমাকে সেখানে থেকে সরিয়ে দিল। এখন আব্বাকে কী বলে শ্বান্তনা দিই বলুন তো?আরও পড়ুন:
অন্যদিকে অফিস ভবন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কোনও কথা বলতে না চাইলেও। স্থানীয় থানার এক পুলিশ কর্মী জানালেন, জাজেরা আসছেন, ট্রাইব্যুনালের কর্মীরাও আসছেন। কিন্তু কী কাজ হচ্ছে, কীভাবে কাজ হচ্ছে সে বিষয়ে কিছুই জানি না। নির্দেশ মত কর্তব্য পালন করছি।
আরও পড়ুন:
শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত আপিল ট্রাইব্যুনালের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর(এসওপি) বা আদর্শ কার্যপ্রণালী বিষয়ে অফিসিয়ালি কিছুই জানা যায় নি। ২১ তারিখ পর্যন্ত প্রথম দফার কত বাতিল ভোটারের মামলায় নিষ্পত্তি হল? তার মধ্যে কতজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হল সে বিষয়েও কোনও তথ্য পাওয়া যায় নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাতিল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ভোটারা তাদের উদ্বেগ নিরসনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন জোকায়। সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব মসৃণ নয়। শিয়ালদহ হাওড়া দুই স্টেশন থেকেই স্থানটির দূরত্ব কমবেশি ১৭/১৮ কিলোমিটার। ফলে উদ্বেগ নিরসনে এসে হয়রানি ও অনিশ্চয়তা নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন তারা।