সেখ কুতুবউদ্দিনঃ উমিদ পোর্টালে রেজিস্ট্রেশনে সহযোগিতা, রেন্ট আদায় সহ বেদখল উদ্ধার নিয়ে ব্যস্ত ওয়াকফ বোর্ডের আধিকারিকরা। সরকারের পালাবদলের পর এইসমস্ত কাজে আধিকারিকরা ব্যস্ত থাকলেও ঠিকমত শুনানি ও তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ। কারণ, ওয়াকফ বোর্ডে বর্তমানে চেয়ারম্যান সহ পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। 

সরকারি এক নির্দেশিকার ভিত্তিতে বোর্ডের চেয়ারম্যান সহ সদস্যদের একাংশ ইস্তফা দেন। এদিকে ওয়াকফ বোর্ডের ইলেকটেড মেম্বার রয়েছেন ৪ জন। এদের মধ্যে মোতাওয়াল্লিদের পক্ষ থেকে ইলেকশনের মাধ্যমে নির্বাচিত, এই সংখ্যা ১ জন। সদস্য হিসেবে ২ জন বিধায়ক থাকেন, তাঁরাও ইস্তফা দিয়েছেন। ১ জন বার কাউন্সিলের সদস্য থাকেন। সরকারি নোমিনেটেড মেম্বাদের সরকারি নির্দেশিকা অনুসারে সদস্যপদ থেকে সরে গিয়েছেন। এই নিয়ে ওয়াকফ বোর্ডের কমিটির একাংশ ভেঙে গেলেও ১১ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকার কারণে বোর্ড মিটিং করা সম্ভব হচ্ছে না। যেহেতু বোর্ড ভেঙে গিয়েছে, সেই জন্য লোক আদালত হচ্ছে না এ'ন। আর এতে বহু মোতাওয়াল্লির সমস্যা থেকেই  যাচ্ছে।

 ওয়াকফ বোর্ডে আসা এক মোতাওয়াল্লির বক্তব্য, সমস্যা  সমাধানের জন্য লোক-আদালতের প্রয়োজন হয়।  ওয়াকফ বোর্ডে এ'ন মানুষ আসছেন, আধিকারিকদের সঙ্গে দে'া করছেন, আর ফিরে যাচ্ছেন। সমস্যার সমাধান তেমনভাবে হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

 ওয়াকফ বোর্ডের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এক শীর্ষ কর্তার বক্তব্য, উমিদ পোর্টালে রেজিস্ট্রেশনে, খতিয়ে দেখা,  বে-দখল জমি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছের চিঠি পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়াকফ সম্পত্তির ‘রেন্ট’ যাতে পুরোপুরি আদায় হয়, সেই চেষ্টা হচ্ছে।

 অল ইন্ডিয়া মোতাওয়াল্লি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইরফান শের জানান, ওয়াকফ বোর্ডে কমিটি ভেঙে গিয়েছে। বোর্ড মিটিং, লোক-আদালত হচ্ছে না। এতে অনেক  কাজ আটকে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে আদালতে মামলা দায়ের  করা হবে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে। আমাদের  বক্তব্য, ওয়াকফ বোর্ড একটি স্বশাষিত বোর্ড। এই বোর্ড হঠাৎ ভেঙে দেওয়া যায় না। আইন মেনেই নির্বাচনের মাধ্যমে বোর্ড গঠন ও চেয়ারম্যান তৈরি হয়।

সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে বোর্ডের কোনও সম্পর্ক নেই। আর সরকার পরিবর্তন হলেই বোর্ড ভেঙে দেওয়া যায় না। 

ওয়াকফ বোর্ডের এক প্রাক্তন কর্মকর্তার বক্তব্য, এই বোর্ডের কমিটির ভেঙে গেলে আর কার্যকারিতার ক্ষমতা থাকে না। এর ফলে নতুন কোনও সিদ্ধান্তই কার্যকর হয় না। কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত সিইও অফিস চালাবেন। কিন্তু নতুন কোনও পলিসি ম্যাটার তৈরি করা সম্ভব হয় না। এছাড়া কোনও মোতাওয়াল্লির নামে অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। নতুন মোতাওয়াল্লি দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে না। এছাড়া ওয়াকফ বোর্ডের উন্নয়নের কাজেও ব্যঘাত ঘটে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলে শুধু চিঠি আদান-প্রদান ছাড়া কোনও কিছু সম্ভব হয় না। সরকার যে কোনও সময়  নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিতে পারে না। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে ওয়াকফ বোর্ডকে পুরোপুরি সক্রিয় জরুরি।

 কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবীর বক্তব্য, সরকারি নির্দেশিকা অনুসারে অবসরকপ্রাপ্ত গেজেটের র‌্যাঙ্কের অফিসাররা অর্থাৎ নমিনেটেড মেম্বাররা কার্যকর হবে না। বিভিন্ন দফতরে অবসরপ্রাপ্তরা কাজ করতেন। এই সরকার এসে নমিনেটেড মেম্বারদের সরিয়ে দিয়েছে। চেয়ারম্যানও নেই। এর মানে বোর্ড ভেঙে গেল। বিধায়ক-সদস্যরা ইস্তফা দিয়েছেন। বার কাউন্সিলেও ইলেকশন  চলছে, কাউন্টিং চলছে, ফল প্রকাশ হয়নি। একমাত্র একজন মোতাওয়াল্লি রয়েছেন, ইলেকশনের মাধ্যমে এসেছেন। কয়েকজন ইসলামিক স্কলারও নোমিনেটেড মেম্বার। সারকুলার অনুসারে তারাও থাকতে পারে না বলে মতামত দেন তিনি। উমিদ পোর্টালে আবেদনকারীরা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন। সরকারের উচিত, এরজন্য সিইওকে সর্বক্ষমতা দিয়ে কাজ উদ্ধার করে নেওয়া প্রয়োজন।