পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বৈঠক শেষে বাংলায় রেল নিয়ে একের পর এক বড় ঘোষণা করেছেন। বাংলায় বুলেট ট্রেন চালুর পাশাপাশি বহু নতুন ট্রেন চালু করা হবে বলেও ঘোষণা করেছেন। সেইসঙ্গে গঙ্গাসাগরগামী পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের জন্যও বিরাট সুখবর পাওয়া যাচ্ছে। কাকদ্বীপ বা নামখানা হয়ে বারবার গাড়ি বদলানো কিংবা নদী পেরিয়ে যাওয়ার দিন এবার শেষের পথে। পাকাপাকিভাবে অবসান ঘটতে চলেছে কপিল মুনির আশ্রমে পৌঁছনোর ঝক্কি ও ক্লান্তিকর যাত্রা পথ।

এরজন্য রেলমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।  

 আগামী ২০২৭ সালের কেন্দ্রীয় সাধারণ বাজেট পেশ হওয়ার আগেই সাগরদ্বীপকে সরাসরি দেশের মূল রেল মানচিত্রের সঙ্গে জুড়ে দিতে চলেছে কেন্দ্র। শনিবার নবান্নের সভাগৃহে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই মেগা প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি হয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে, খুব তাড়াতাড়িই এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রেল সংযোগের সুবিধা পেতে চলেছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের পর কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এখন এক সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ তুলতেন যে গঙ্গাসাগর নিয়ে রাজ্য সরকারের কোনও দাবি-দাওয়াকেই দিল্লি আমল দিচ্ছে না।

সাগরের উপকূলবর্তী এলাকার ভাঙন রোধ থেকে শুরু করে মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ; সবেতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ তোলা হতো। কিন্তু রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠার পর সেই সংঘাত এখন অতীত। বরং কেন্দ্র ও রাজ্যের এই সমন্বয়ধর্মী রসায়নের সবচেয়ে বড় লাভ পেতে চলেছে পুণ্যভূমি গঙ্গাসাগরই।

বর্তমানে কলকাতা বা তার আশপাশের এলাকা থেকে সরাসরি গঙ্গাসাগর যাওয়ার কোনও ট্রেন রুট নেই। পুণ্যার্থী কিংবা পর্যটকদের শিয়ালদহ স্টেশন থেকে প্রথমে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার লোকাল ট্রেনে চেপে পৌঁছাতে হয় কাকদ্বীপ অথবা নামখানা স্টেশনে। কিন্তু ভোগান্তির সেখানেই শেষ নয়।

স্টেশন থেকে নেমে আবার বাস কিংবা অটো চড়ে যাত্রীদের যেতে হয় লট ৮ নম্বর জেটি ঘাটে। সেখান থেকে ফের ভেসেল কিংবা লঞ্চে করে মুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে অবশেষে পৌঁছানো যায় কচুবেরিয়া ঘাটে। কচুবেরিয়া থেকে আবার বাসে করে পৌঁছাতে হয় মূল মেলা প্রাঙ্গণে। মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামে, তখন এই দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রাপথের ঝক্কি পোহাতে গিয়ে পুণ্যার্থীদের, বিশেষত বয়স্কদের নাজেহাল দশা হয়। সাধারণ মানুষের এই চরম ভোগান্তি থেকে স্থায়ী রেহাই দিতেই ট্রেন চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। 

এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন রাজ্যের আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, রেলের প্রকল্পে কোনোভাবেই গড়িমোশি করা চলবে না। দ্রুত জমি চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে কিভাবে যাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রেলকে সাহায্য করা যায় সেই জন্য হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে রাজ্যকে। আর সেখানে কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রিতা বরদাস্ত নয়-স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।