পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা বেড়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকেই রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, সরকারি নথিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ দস্তাবেজ সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন দপ্তরে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নবান্ন, মহাকরণ, বিকাশ ভবন, জলসম্পদ ভবন এবং খাদ্যভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রে বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য।

এই তৎপরতার পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার দাবি করেছে, ক্ষমতার পালাবদল ঘটলে অতীতের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নথিপত্র খতিয়ে দেখা হবে। সেই আবহে সরকারি নথি যাতে কোনওভাবেই নষ্ট, সরানো বা গায়েব না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই সতর্কতা বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় শাসকদলের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে পুরনো সমস্ত নথি ও ফাইল খতিয়ে দেখা হবে। সেই বক্তব্যের জেরেই প্রশাসনিক স্তরে নথি সংরক্ষণে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের। কারণ, সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংবলিত নথি সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে।

বর্তমানে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু নবান্ন হলেও ঐতিহাসিকভাবে মহাকরণ ছিল প্রশাসনের মূল সদর দপ্তর। রাজনৈতিক পালাবদল ঘটলে পুরনো প্রশাসনিক কাঠামো ও ভবনগুলিকে নতুন গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার থেকেও এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সরকারি নথিপত্রের নিরাপত্তা। বিশেষ করে নবান্ন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি নজর কেড়েছে। ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নয়, বরং সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রস্তুতির অংশ। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই সরকারি দপ্তরগুলিতে এই বাড়তি সতর্কতা এখন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।