পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা ক্ষেত্রের অন্তর্গত হরিশপুর গ্রামের করীম মিস্ত্রি নামে এক চাষির ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করল অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। করীম মিস্ত্রী তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট ছিলেন। বুধবার দিনভর হরিশপুর হাজারি সর্দার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৯ নাম্বার বুথে তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট হিসেবে করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে ফসলের জমিতে গিয়ে দেখেন তার ফুল গাছ, পটল গাছ, কাঁঠাল, কলার কাঁদি ইত্যাদি কেটে, ছিঁড়ে কে  বা কারা নষ্ট করে দিয়েছে। গ্রামবাসী এবং দলকে বিষয়টি জানালে তারা ক্ষয়ক্ষতি দেখে বেশ অবাক ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

গোপালনগর থানায় এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন করীম মিস্ত্রী। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মণিরুল ইসলাম জানান, করীম মিস্ত্রী এলাকার একজন চাষি। তাঁর ফুল চাষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের ফসলের চাষ রয়েছে। কিন্তু যেভাবে তাঁর ফসলের ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে তা খুব দুর্ভাগ্যজনক।
পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করুক।
এব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি করীম মিস্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘পুবের কলম’ প্রতিবেদককে জানান, ‘সকালে মাঠে গিয়ে দেখতে পাই ফুল চাষের খেত থেকে ফুল গাছ তোলা রয়েছে, ৫০ থেকে ৬০ টা কাঁঠাল ছিড়ে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা, পটল গাছ উপড়ানো, কলাগাছের কাঁদি নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। থানায় অভিযোগ জনানোর পরে পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করেছে।’ তিনি দুষ্কৃতিদের শাস্তি দাবি করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির সাবেক সভাপতি এবং পাল্লা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূলের আঞ্চলিক সভাপতি প্রবীর দাস জানান, ‘করীম মিস্ত্রী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ।
উনি তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। ওই ঘটনার পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে। করীম মিস্ত্রী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়াতেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে। প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।’ অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তৃণমূলের ওই অভিযোগকে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।