পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ আগামীকাল সোমবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা। তার আগে গোটা রাজ্যের স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্র ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। এই পরিস্থিতিতে ভোটগণনার দিনকে সামনে রেখে ৪৮ ঘণ্টার জন্য ভারত-ভুটান সীমান্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার সঙ্গে লাগোয়া ভুটান সীমান্ত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রতিটি প্রবেশপথে চলছে কড়া তল্লাশি। জলপাইগুড়ির চামুর্চি এবং আলিপুরদুয়ারের ফুন্টশলিং সংলগ্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ গণনাকেন্দ্র রয়েছে। সেই কারণেই এই দুই সীমান্তপথে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচলের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য,  ভোটগণনার সময় যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকেই বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

তবে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে সীমান্ত পারাপারের সুযোগ রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি দেখাতে হবে। পাশাপাশি বৈধ কাগজপত্র থাকলে বিশেষ ক্ষেত্রে পর্যটকদেরও অনুমতি দেওয়া হতে পারে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী গাড়িগুলিকেও কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের তরফে সাধারণ মানুষকে আপাতত ভুটান সফর বা সীমান্ত পারাপারের পরিকল্পনা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বিভিন্ন নাকা চেকপোস্টে বাড়ানো হয়েছে তল্লাশি।

এর আগেও প্রথম দফার ভোটের সময় একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। গত ২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গের একাধিক সীমান্তবর্তী কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালীন সীমান্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল। তখন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সীমান্ত দিয়ে দুষ্কৃতীদের যাতায়াত, বেআইনি অস্ত্র পাচার এবং অশান্তির আশঙ্কা ঠেকাতে এই পদক্ষেপ করা হয়। উল্লেখ্য, প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভোট হয়েছিল। সেই পর্বে নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের পাশাপাশি অসম ও বিহার সংলগ্ন এলাকাতেও ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এবার ভোটগণনার আগেও একইভাবে সতর্ক প্রশাসন।