পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গাজিয়াবাদে মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি আরও কড়া হয়েছে। দাসনার একটি মাদ্রাসা ভেঙে ফেলা এবং খোদা এলাকায় দুটি মাদ্রাসা সিল করার পর এবার ইন্দিরাপুরমের কানভানি গ্রামে অবস্থিত একটি মাদ্রাসা সিল করে দিল প্রশাসন। সরকারের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল এবং একাধিক বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা সংক্রান্ত মানদণ্ডও পূরণ করেনি।
আরও পড়ুন:
প্রশাসনের বক্তব্য, সংখ্যালঘু কল্যাণ বিভাগের অভিযানে ইন্দিরাপুরম থানার অন্তর্গত কানভানি এলাকার মাদ্রাসা "জামিয়া খালফা-এ-রশিদিন " সিল করা হয়।
তদন্তে দাবি করা হয়, মাদ্রাসাটির কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন নেই এবং পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনও সংগ্রহ করা হয়নি। পুলিশের ডিসি ধাওয়াল জয়সওয়াল জানান, প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মানছিল না। পাশাপাশি সরকারি নথিতেও মাদ্রাসাটির কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশনের তথ্য পাওয়া যায়নি। সেই কারণেই সংখ্যালঘু কল্যাণ বিভাগের সুপারিশে সিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।আরও পড়ুন:
জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক বলেন, তদন্তের সময় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কোনো স্বীকৃত সংস্থা বা সমিতির অধীনে রেজিস্ট্রেশনের বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। এছাড়া ভবনটির জন্য দমকল বিভাগ কিংবা বিদ্যুৎ নিরাপত্তা দপ্তরের কাছ থেকে কোনো এনওসি নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের মতে, শিশুদের আবাসন ও শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই ধরনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র না থাকা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
এই পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার মূল ভবন এবং সংলগ্ন কক্ষগুলি তাৎক্ষণিকভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে সেখানে অধ্যয়নরত শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে এবং জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ কার্যালয়ে নিজেদের বক্তব্য পেশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কও শুরু হয়েছে। কারণ, রেজিস্ট্রেশন হয়নি এই ধরনের মাদ্রাসা সংক্রান্ত একটি মামলায় পূর্বে এলাহাবাদ হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছিল যে শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশন না থাকার কারণে কোনো মাদ্রাসাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেওয়া যায় না। যদিও এমন প্রতিষ্ঠান সরকারি স্বীকৃতি বা আর্থিক অনুদান দাবি করতে পারে না বলে আদালত জানিয়েছিল।প্রশাসন আরও জানিয়েছে, প্রশাসনিক তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে একটি এফআইআর দায়ের করা হতে পারে। তদন্তের অগ্রগতি ও জমা পড়া নথি পর্যালোচনার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।