পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ঈদ উল আযহার ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনে মারধরের অভিযোগ তুলে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বিহারের এক মাদ্রাসা ছাত্রকে ঘিরে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়েছিল পরিবারে। অবশেষে খোঁজ মিলল মাদ্রাসার সেই ছাত্রের। কয়েক ঘণ্টার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর অবশেষে ওই ছাত্র নিজেই নিরাপদে বাড়ি ফিরেছে। তাতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, ২০ বছর বয়সী ফাইজান আহমেদ শেখ বিহারের ফুলওয়ারিয়া থানার অন্তর্গত চুরামন চক ভাটওয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উত্তর প্রদেশের মৌ জেলার জামিয়া আমজাদিয়া ঘোসি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। ঈদ উল আযহার ছুটিতে উত্তরপ্রদেশ থেকে বাড়ি ফেরার জন্য পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন। পরে তাঁর সঙ্গে আরও কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। ফাইজানের বাবা, ইমতিয়াজ আহমেদ শাহ পেশায় সরকারি স্কুলের শিক্ষক।

তিনি বলেছিলেন, তাঁর ছেলে মাউ জংশন থেকে ট্রেনে ওঠার পর পরিবারকে খবরটি জানিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ট্রেনটি বেলথারা রোড পার হয়ে সালেমপুর স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় ফাইজান তাঁর আব্বাকে মোবাইলে একটি ম্যাসেজ পাঠান।

তাতে লেখা ছিল, "আব্বু এখানে মারামারি হচ্ছে...। ট্রেনে সবাই আমাকে মারছে...। আমি লুকিয়ে মেসেজ করছি।" তারপরেই উদ্বেগ বেড়ে যায় পরিবারের সদস্যদের।

পরিবারের দাবি, সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর দীর্ঘ সময় তার কোনও খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগও জানানো হয়।

ফাইজানের সন্ধান না মেলায় বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। অনেকেই তাঁকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। পরিবারও আশঙ্কায় দিন কাটাতে থাকে।

এর কিছু সময় পর ফাইজান পরিবারের সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য ফোনে কথা বলেন তিনি। ফাইজান জানান, তিনি অসমের গুয়াহাটিতে পৌঁছেছেন। ফোনে তিনি অসংলগ্ন অবস্থায় কথা বলছিলেন বলেও পরিবারের দাবি। তিনি জানান, তাঁর মাথা ঠিকমতো কাজ করছে না। এরপর পরিবার তাঁকে সেখানেই কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলে এবং পরিচিতদের মাধ্যমে সাহায্যের ব্যবস্থা করে। পরে জানা যায়, ফাইজান নিরাপদে বাড়ি ফিরে এসেছেন।

এই খবর সামনে আসতেই স্বস্তি ফেরে পরিবারে। পাশাপাশি তাকে খুঁজে বের করতে যাঁরা সাহায্য করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু থেকেই উদ্বেগের কারণ ছিল সাম্প্রতিক অতীতে ট্রেনে যাত্রীদের উপর হামলার একাধিক অভিযোগ সামনে আসা। বিশেষ করে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যাত্রীদের নিশানা করার অভিযোগ ওঠায় ফাইজানের পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে গিয়েছিল।
সম্প্রতি ট্রেনে সফরের সময় এক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় আসে। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও তাজা থাকায় ফাইজানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের আশঙ্কা আরও বেড়ে গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ফাইজান নিরাপদে বাড়ি ফেরায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে। যদিও ঠিক কী ঘটেছিল ট্রেনের মধ্যে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। পরিবারের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার।