পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ইদ উল আযহার সকালে তাজমহল চত্বরে নামাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হল আগ্রায়। তাজমহলের ভিতরে অবস্থিত মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি মিলেছিল কর্তৃপক্ষের কাছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুসলিমদের বিনামূল্যে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিক্ষোভে নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাজমহল চত্বর ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করে পুলিশ।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,  তাজমহলের ভিতরের মসজিদে সকালে ইদ উল আযহার নামাজ শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়।

তবে তার আগে থেকেই বিক্ষোভের আশঙ্কায় সতর্ক ছিল প্রশাসন। তাজমহলের চারপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শহরের একাধিক থানার পুলিশ বাহিনীও সেখানে উপস্থিত ছিল। তাজমহলের ভিতরে নামাজের অনুমতির বিরোধিতা করে ওই সংগঠনের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, ঈদের সময় বিশেষ প্রবেশ সুবিধা দেওয়া হলেও অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে একই ধরনের সুযোগ দেওয়া হয় না। বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, অন্য উৎসবে কেন একই নিয়ম কার্যকর করা হয় না।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কায় পুলিশ সংগঠনের কয়েকজন নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে আগাম পদক্ষেপ নেয়। কয়েকজনকে আটক করা হয় বলেও জানা গিয়েছে। সংগঠনের কিছু নেতার চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিক্ষোভ যাতে তাজমহল চত্বর পর্যন্ত পৌঁছতে না পারে, সে দিকেও কড়া নজর ছিল পুলিশের। এদিকে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই কিছু বিক্ষোভকারী ধর্মীয় স্লোগান দিতে থাকেন। যদিও বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

প্রশাসনের দাবি, পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঈদের নামাজ যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সে কারণেই আগে থেকেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সকালে গোটা এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই তাজমহলের ভিতরের মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ইসলাম ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলিতে সেখানে মুসল্লিদের জন্য বিশেষ প্রবেশ ব্যবস্থাও করা হয়। তবে এ বার সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে আগ্রায়।