পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভাগ্নির বিয়েতে যোগ দিতে নিজের জন্মভিটে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ফিরছিলেন। সব প্রস্তুতিও শেষ ছিল। কিন্তু দেশের মাটিতে পা রাখার আগেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রের বলি হতে হলো তাঁকে। গত বুধবার কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানের এক ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন মনজুর আহমেদ নামের এক ভারতীয় নাগরিক। ৫২ বছর বয়সী মনজুর আহমেদ পেশায় একজন দর্জি ছিলেন।

গত ৩০ বছর ধরে তিনি জীবিকার তাগিদে কুয়েতে কর্মরত ছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে তাঁর পরিবারে এখন বিয়ের সানাইয়ের বদলে কান্নার রোল উঠেছে।

'এনডিটিভি'র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার ফ্লাইটে কুয়েত থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা ছিল মনজুরের। কুয়েত থেকে বিমানে মুম্বাই নেমে সেখান থেকে ট্রেনে করে নিজের শহর উজ্জয়িনীতে পৌঁছানোর সূচি ছিল তাঁর। বিমানে ওঠার ঠিক আগের দিনই তিনি উজ্জয়িনীতে থাকা তাঁর ১৮ বছর বয়সী ছেলে আনাস আহমেদের সাথে ফোনে শেষবার কথা বলেন।

বাবাকে হারানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়ে আনাস সেই শেষ কথোপকথন মনে করে বলে, "আব্বু নাগদা ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিলেন। ফোনে আমায় বলেছিলেন, 'আমি আসছি, তুই স্টেশনে এসে আমায় নিয়ে যাস!' আমি স্টেশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, আর তার আগেই এই সর্বনাশ হয়ে গেল।"

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিহত মনজুরের ভগ্নিপতি মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, "আমরা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছি। সবকিছু এত তাড়াতাড়ি আর হুট করে ঘটে গেল যে আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না।

ওই মানুষটিই ছিলেন পুরো পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। এখন এই পরিবারটি কীভাবে বাঁচবে?"

কুয়েত বিমানবন্দরে হামলার পর সমস্ত আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মনজুর আহমেদের মরদেহ বিশেষ বিমানে করে ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে তাঁর আত্মীয়স্বজন এবং পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহটি উজ্জয়িনীতে নিয়ে যান। সেখানেই তাঁর শেষকৃত্য বা জানাজা সম্পন্ন হবে বলে পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে।