পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ কেরলে বর্ষার আগমন ঘটেছে। আগামী সপ্তাহে বঙ্গে বর্ষা ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে বর্ষার প্রাক বৃষ্টিতে জলমগ্ন উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকা। টানা বৃষ্টিতে জল জমেছে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায়। এর মধ্যে জলপাইগুড়ি জেলার মাল ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এমনকি রাস্তার উপর দিয়ে জলের স্রোত বইছে, জলমগ্ন হয়েছে জাতীয় সড়ক। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা।

ধুপগুড়ি সহ গোটা ডুয়ার্সে মুসলধারে বৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি জলমগ্ন হয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার চৌরাস্তা মোড় এলাকা। আর প্রবল বৃষ্টি সঙ্গেই জলঢাকা থেকে শুরু করে ডুডুয়া, ডায়না এবং আরংভাসা নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গিয়েছে বৃষ্টির ফলে নিউ মাল থেকে মালবাজারগামী জাতীয় সড়কের পার্শ্ববর্তী রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। চা বাগানের মাঠ থেকে শুরু করে শ্রমিকদের আবাসন, জাতীয় সড়কের একাংশ জলের তলায় চলে গেছে। এছাড়া, একটানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঝোরা ও নালাগুলিতে জলস্তর বাড়তে থাকায় জল নিকাশি ব্যবস্থাও কার্যত বিকল হয়ে পড়েছে।

এর জন্য স্থানীয়রা নিকাশি ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, রাজার চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় একটি নতুন সেতুর নির্মাণের কাজ চলছে। তার জন্য এই জলযন্ত্রণা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও যান চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে একটি অস্থায়ী ডাইভারসন তৈরি করা হয়েছে। তবে তার কারণে জল বের হতে পারছে না। এর ফলে আশেপাশের এলাকাগুলিতে জল যন্ত্রণা বলে দাবি স্থানীয়দের। 

অন্যদিকে, বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ল উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার চৌরাস্তা মোড় এলাকা।

এর জেরে এলাকার ব্যস্ততম রাস্তাঘাটগুলি আক্ষরিক অর্থেই কার্যত পুকুরের রূপ ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও জল জমে গেছে হাঁটু পর্যন্ত। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নিত্যযাত্রী, যানবাহন চালক থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারীরা। উল্লেখ্য, ইটাহার চৌরাস্তা মোড় এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল এবং এলাকার  প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। সামান্য কিছুক্ষণের বৃষ্টিতেই এই ব্যস্ততম মোড়ের রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যায়। রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় বাইক, সাইকেল থেকে শুরু করে ছোট চারচাকা গাড়ি ও টোটো চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যাচ্ছে যানবাহন। তবে বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই নোংরা হাঁটু জল পায়ে ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও অফিসযাত্রীদের।