পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । উত্তরবঙ্গ সফরে পৌঁছেই সেখানকার মানুষকে প্রণাম জানালেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এবার থেকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই প্রতি মাসে মুখ্যমন্ত্রী নিজে উত্তরবঙ্গে আসবেন এবং প্রশাসনিক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে উত্তরকন্যায় বসবেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী, যেখানে সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও দাবি সরাসরি শোনা হবে।
আরও পড়ুন:
বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। গাড়ি থেকে নেমে হাতজোড় করে সকলকে অভিবাদন জানান তিনি।
উত্তরবঙ্গ থেকে বিজেপিকে বিপুল সমর্থন দেওয়ার জন্য মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। তাঁদের উপস্থিতিতে শুভেন্দু বলেন, "উত্তরবঙ্গে ঘুরতে নয়, কাজ করতে আসব। কথার চেয়ে কাজেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।"আরও পড়ুন:
এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক ধরনকেও পরোক্ষে কটাক্ষ করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার পাহাড় ও উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যটন এলাকাতেও সময় কাটিয়েছিলেন। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে এসেছে, তৃণমূল আমলে উত্তরবঙ্গের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।
নির্বাচনী প্রচারেও সেই ইস্যু জোরালোভাবে সামনে তুলেছিল গেরুয়া শিবির। বুধবার উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার বিধায়ক, প্রশাসনিক আধিকারিক ও পুলিশ কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সূত্রের খবর, বর্ষা সামনে থাকায় বন্যা, ভূমিধস, হড়পা বান ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতিই বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় হতে চলেছে। এছাড়াও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চা বাগানের সমস্যা, বেআইনি নির্মাণ এবং বালি-পাথর মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হবে।আরও পড়ুন:
উত্তরবঙ্গকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "২০০৯ সাল থেকেই দার্জিলিং ও উত্তরবঙ্গ বিজেপিকে সমর্থন দিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এখানকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।" তিনি আরও জানান, উত্তরকন্যাকে পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় করা হবে।
প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পাশাপাশি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সাংসদ-বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকও করবেন তিনি। উত্তরকন্যায় যাওয়ার আগে শিলিগুড়ির বিজেপি জেলা কার্যালয়েও যান মুখ্যমন্ত্রী। পথে একাধিক জায়গায় থেমে সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন তিনি। অনেককে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান, এমনকি এক শিশুকে কোলে তুলতেও দেখা যায় তাঁকে। জনতার উচ্ছ্বাসের মধ্যেই তিনি পৌঁছন দলের কার্যালয়ে। সেখানে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারী সংগঠন আরও শক্তিশালী করার বার্তাও দেন।