পুবের কলম, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে (Khyber Pakhtunkhwa) ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। সোমবার ভোররাতে (রাত প্রায় ২টার দিকে) চিনা তৈরি জে-১৭ যুদ্ধবিমান থেকে আটটি এলএস-৬ লেজার-গাইডেড বোমা ফেলা হয় তিরাহ ভ্যালির একটি গ্রামে। বোমার তীব্রতায় গ্রামের একাধিক বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে আসে।
দীর্ঘদিন ধরেই খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। গত সপ্তাহেই সোয়াত ভ্যালির মিংগোরা শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিল। স্থানীয়রা বলছে, সেনাবাহিনীর অভিযানে নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, অথচ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস হচ্ছে না।READ MORE: ‘I Love Muhammad’ row: আলিয়ার পড়ুয়াদের বিক্ষোভ মিছিল
পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল পিটিআই এক বিবৃতিতে (Khyber Pakhtunkhwa) বলেছে—“এই দুঃখ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ড্রোন হামলা আর বোমাবর্ষণ শুধু ঘৃণার বীজ বপন করছে, এতে শান্তি নয় বরং আরও অস্থিরতা বাড়বে।”আরও পড়ুন:
অন্যদিকে সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল তেহরিক-ই-তালিবানের (টিটিপি) ঘাঁটি। গোয়েন্দা তথ্যে জানানো হয়েছিল, টিটিপির দুই কমান্ডার আমান গুল ও মাসুদ খান সেখানে বোমা তৈরির কারখানা চালাচ্ছিল এবং সাধারণ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিল। এমনকি তৈরি হওয়া বোমাগুলো নাকি আশেপাশের মসজিদে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
তবে মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, এই ধরনের হামলা আসলে বেসামরিক প্রাণহানিকেই বাড়াচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া অফিস এর আগেও পাকিস্তান সরকারের “বেসামরিক জীবনের প্রতি অবহেলা” নিয়ে সমালোচনা করেছে।
আরও পড়ুন:
এর আগেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে। এ বছরের মার্চে খাইবার অঞ্চলের কাটলাং এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ১০ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন। গত জুনে এক ড্রোন হামলায় শিশু মৃত্যুর পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
আরও পড়ুন:
সাম্প্রতিক সময়ে টিটিপি আরও শক্তিশালী হয়েছে। আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলকে তারা ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে বলে ইসলামাবাদের অভিযোগ। তবে আফগান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংকট তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ফল।