পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কলকাতা পুলিশকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। রাজধানী দিল্লির পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সমতুল্য পরিকাঠামো গড়ে তুলতে কলকাতা পুলিশে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। সেই লক্ষ্যেই লালবাজারের তরফে গঠন করা হয়েছে বিশেষ পর্যবেক্ষক কমিটি।
আরও পড়ুন:
পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের নির্দেশে তৈরি হওয়া এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের যুগ্ম নগরপাল নীলাঞ্জন বিশ্বাস। মোট পাঁচ সদস্যের এই কমিটির দায়িত্ব, বাহিনীর বর্তমান সাজসরঞ্জাম, মজুত ও প্রস্তুতির সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা।
আগামী পনেরো দিনের মধ্যে তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।আরও পড়ুন:
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন পুলিশ বিভাগে কোথায় কত পরিমাণে নিরাপত্তা সরঞ্জাম রয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। মাথার সুরক্ষাসামগ্রী, লাঠি, ঢাল, দেহরক্ষার বর্ম, প্রাণনাশ এড়ানো নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, রাবারের গুলি, কাঁদানে গ্যাস থেকে জল নিক্ষেপকারী গাড়ি সব কিছুই পর্যালোচনার আওতায় থাকবে।
আরও পড়ুন:
শুধু মজুতের হিসাব নয়, দেশের অন্যান্য বড় পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত সরঞ্জামের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের সরঞ্জামের তুলনাও করা হবে। কোথায় ঘাটতি রয়েছে, কোন ক্ষেত্রে উন্নতির প্রয়োজন সেই বিষয়গুলি চিহ্নিত করেই তৈরি হবে রিপোর্ট।
তার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই কমিটিতে যুগ্ম নগরপালের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের সশস্ত্র শাখার একাধিক আধিকারিকও রয়েছেন। বাহিনীর বাস্তব পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত মোকাবিলার সক্ষমতা সব দিক খতিয়ে দেখাই তাদের মূল কাজ।আরও পড়ুন:
হঠাৎ এই উদ্যোগ কেন, তা নিয়ে সরকারি নির্দেশে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, শহরে যে কোনও অশান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগেভাগে প্রস্তুত থাকতে চাইছে লালবাজার।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় উত্তেজনা সামাল দিতে পুলিশকে বাড়তি চাপে পড়তে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বাহিনীকে আরও প্রস্তুত ও সজ্জিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন:
বিশেষ করে কিছুদিন আগে শহরের একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ ও উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কোথাও বড় জমায়েত, কোথাও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাত এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত বাহিনীর প্রয়োজন হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পরেই বাহিনীর সরঞ্জাম, সুরক্ষা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের একাংশের মতে, আগামী দিনে শহরের যে কোনও প্রান্তে আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ দেখা দিলে তা মোকাবিলায় কলকাতা পুলিশকে আরও সক্ষম করে তুলতেই এই উদ্যোগ।