তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মাঝেই শুক্রবার দুপুরে আচমকা কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। তারপরই শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে কলকাতা-র জনজীবন। শহরের একাধিক এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে, জল জমে ব্যাহত হয় যান চলাচল। ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাউথ সিটি মল-ও। মলের একাধিক কাঁচ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। গ্র্যান্ড হোটেল-এর সামনে রাস্তার উপর গাছ ভেঙে পড়ে। মুদিয়ালিতে একটি ক্যাবের উপর গাছ পড়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর মেলেনি। এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরেও একটি গাড়ির উপর গাছ ভেঙে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া হরিশ মুখার্জি রোড, রেড রোড ও সল্টলেকের বিভিন্ন জায়গায়ও একই ছবি দেখা যায়।
ভারী বৃষ্টিতে জল জমে যায় ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি ও সিআর অ্যাভিনিউ এলাকায়।

বাস দাঁড়াতে সমস্যা হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাস্তায় নামেন পুলিশ কর্মীরা।
ঝড়ের জেরে রেল ও মেট্রো পরিষেবাতেও প্রভাব পড়ে। মধ্যমগ্রাম স্টেশনের কাছে গাছ পড়ে ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। কলকাতা মেট্রো-র কবি সুভাষ ও ক্ষুদিরাম স্টেশনের মাঝেও লাইনে গাছ পড়ে সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। ঝোড়ো হাওয়ায় ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনের টিনের শেড উড়ে যায় বলেও খবর।
পরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গাছ সরানোর কাজ শুরু করেন মেট্রো কর্মীরা।
শুধু সড়ক বা রেল নয়, খারাপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে বিমান পরিষেবাতেও। শহরের বিমানবন্দরের রানওয়েতে জল জমে যাওয়ায় বিমান ওঠানামায় সাময়িক সমস্যা দেখা দেয়।
এর আগেই বৃহস্পতিবার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে জারি করা হয়েছিল লাল সতর্কতা। সেই পূর্বাভাস মেনেই শুক্রবার দুপুরে কলকাতায় ঘণ্টায় প্রায় ৮৮ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায় বলে জানা গেছে। উত্তর ২৪ পরগনাতেও ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইেছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের মালদহ ও দুই দিনাজপুরসহ একাধিক জেলাতেও ভারী বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।