পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যের নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র আবেদনপত্র প্রকাশের পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের আবেদনপত্র প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। উপভোক্তাদের তালিকায় অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসায় আবেদনপত্র জমা নেওয়ার পর প্রতিটি আবেদন খুঁটিয়ে যাচাই করা হবে। তারপরেই চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে আবেদনপত্র প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এনিয়ে বড় মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।আরও পড়ুন:
প্রায় ১২ পাতার এই আবেদনপত্রে আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সঙ্গে একাধিক প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিতে হবে। এত তথ্য ও কাগজপত্র একসঙ্গে জমা দেওয়ার নিয়মে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বহু মানুষের বক্তব্য, ফর্মটি যথেষ্ট দীর্ঘ হওয়ায় তা নিজেরা নির্ভুলভাবে পূরণ করা সহজ হবে না। এই নিয়ে বিরোধীদের তরফেও প্রশ্ন উঠেছে।
তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা উচিত ছিল। এত দীর্ঘ ও বিস্তারিত আবেদনপত্র পূরণ করতে গিয়ে বহু মানুষ সমস্যায় পড়বেন বলেও মত বিরোধীদের একাংশের।আরও পড়ুন:
যদিও সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের কাছেই এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে আবেদনপত্রে তথ্য যাচাইয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। কোনও রকম ভুল তথ্য বা অনিয়ম যাতে না থাকে, সে কারণেই বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনের দাবি। এ বিষয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, আবেদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে আরও সহজ করা হবে। প্রকৃত প্রাপকের হাতে সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।
কোনও অনিয়ম বা ভুল বণ্টন যাতে না হয়, যেন বাংলাদেশীরা সুবিধা নিয়ে না চলে যায় সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।আরও পড়ুন:
এদিকে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য জেলায় জেলায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে সহায়তা শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েত কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
আরও পড়ুন:
এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ না হলেও প্রতিটি ব্লকের আধিকারিকদের নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। মূল লক্ষ্য, আবেদন জমা নেওয়ার সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে সুষ্ঠুভাবে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। যাতে কোথাও বিশৃঙ্খলা বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ সতর্ক প্রশাসন।
আরও পড়ুন:
এছাড়াও জেলার বিভিন্ন বাংলা সহায়তা কেন্দ্র থেকেও আবেদনপত্র পূরণে সাহায্য করা হবে বলে জানিয়েছেন একাধিক ব্লক আধিকারিক। ফলে যাঁদের আবেদনপত্র পূরণ করতে অসুবিধা হচ্ছে, তাঁরা সেখান থেকেও সহায়তা নিতে পারবেন।