পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে নতুন সরকারের ঘোষিত প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম জনমুখী প্রকল্প হল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের সুবিধা দিতে ফর্ম বিতরণ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু, এর জন্য ফিলাপ করতে হচ্ছে ১২ টি পাতা। এই ১২ পাতার ফর্মে উপভোক্তাকে শুধু তার নিজের তথ্যই দিতে হচ্ছে না, দিতে হচ্ছে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের তথ্য । যা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে আবেদনকারীদের মধ্যে। কেন ১২ পাতার ফর্ম ফিলাপ করতে হচ্ছে সে বিষয়টি এবার স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
আরও পড়ুন:
মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকল্পের সুবিধা যেন শুধুমাত্র প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের কাছেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই বিস্তারিত তথ্য চেয়ে এই ফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এই প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেকের অভিযোগ, আবেদনপত্রে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথির অভাবে বহু যোগ্য আবেদনকারী সমস্যায় পড়তে পারেন, এমনকি অনেকের নাম বাদ যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন আবেদনকারীদের একাংশ। তবে সেই সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে মন্ত্রী জানান, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত প্রাপকদের হাতে পৌঁছে দিতেই এই যাচাই প্রক্রিয়া জরুরি।
আরও পড়ুন:
মন্ত্রী বলেন, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অর্থ মানুষের করের টাকা থেকে আসে। তাই সেই সুবিধা কেবলমাত্র যোগ্য নাগরিকদের কাছেই যাওয়া প্রয়োজন।
তাঁর বক্তব্য, রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি বা অযোগ্য কেউ যাতে সরকারি আর্থিক সহায়তার সুবিধা নিতে না পারেন, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, আগের সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পরিবর্তে নতুন রূপে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাছাড়া এই তথ্য পরবর্তীতে অন্য কাজেও লাগবে বলে তিনি এই ইঙ্গিত দেন। মন্ত্রীর কথায়, "তৃণমূল যদি ভাবে যে বিজেপি রোহিঙ্গা, বাংলাদেশিদের টাকা দেবে সেটা ভুল। আমাদের সরকার কোন অভারতীয়কে অন্নপূর্ণার সুবিধা দিতে চায় না। এটা আমাদের টাকা, জনগণের টাকা। যে তৃণমূল ১৫ বছর ধরে মানুষকে ঠকিয়েছে তাদের উপদেশ বিজেপি নিতে চায় না।কী কী তথ্য দিতে হচ্ছে ফর্মে?
১) একটি পরিবারের জন্য একটি ফর্ম বরাদ্দ করা হয়েছে। তাতে একাধিক নামের জায়গা রয়েছে।
২) আধার কার্ড বা অন্যান্য সরকারি পরিচয় পত্র অনুযায়ী পরিবারের প্রধান এবং অন্যান্য সদস্যদের নাম দিতে হবে। এছাড়াও উল্লেখ করতে হবে জন্ম তারিখ ও লিঙ্গ।
৩) পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের আধার নম্বর উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি এপিক নম্বর, ভোটার তালিকার অংশ ও নম্বর এবং ব্যাঙ্ক একাউন্ট নম্বর দিতে হবে।
৪) পরিবারের সদস্যদের ডিজিটাল রেশন কার্ডের পাশাপাশি প্যান কার্ড নম্বর যদি থাকে তা উল্লেখ করতে হবে।
৫) কাঁচা না পাকা বাড়ি সেটাও উল্লেখ করতে হবে ফর্মে। তিনটি বেশি পাকা ঘর আছে কিনা জানাতে হবে। আর সেই সঙ্গে সব পরিবারের সদস্যদের মোট জমির পরিমাণ জানাতে হবে।
৬) পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি আছে কিনা তাও জানাতে হবে।
৭) এছাড়া অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের কার্ড যেমন স্বাস্থ্য বীমা, কিষান ক্রেডিট কার্ড,বি মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, শিল্পী ক্রেডিট কার্ড থাকলে তার তথ্য দিতে হবে।
৮) পরিবারের কোনো সদস্য আয়কর দিয়ে থাকলে অথবা কি চাকরি করেন, পেনশন পান কিনা এবং বার্ষিক আয় কত? তা জানাতে হবে।
৯) জিএসটি নম্বর থাকলে জানাতে হবে।
১০) পরিবারের কেউ সাংবিধানিক পদে থাকলে সেটাও উল্লেখ করতে হবে ফর্মে।
১১) পরিবারের যারা প্রাপ্তবয়স্ক আছেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কি? সেটা যেমন জানাতে হবে সেরকম শিশু থাকলে কোন শ্রেণীতে পড়ে সেটাও উল্লেখ করতে হবে।
১২) বাড়িতে শিশু থাকলে টিকাকরণের আপডেটও দিতে হবে।
১৩) অন্য কোন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মিলছে কিনা জানাতে হবে।
১৪) ২০২৬ এসআইআরে নাম বাদ পড়ে থাকলে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন কি না উল্লেখ করতে হবে ফর্মে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছেন, আবেদনপত্র জমা দেওয়া যাবে দুইভাবেই। কেউ চাইলে নিজে আবেদন করতে পারবেন, আবার প্রয়োজনে সরাসরি নির্দিষ্ট শিবিরেও আবেদন জমা দিতে পারবেন। শুভেন্দু জানান, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক এবং আর্থিক ভাবে দুর্বল মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার সঙ্গে যুক্ত হবেন।
আরও পড়ুন:
যাঁরা নিজে আবেদনপত্র পূরণ করতে সমস্যায় পড়ছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করছে সরকার। আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হবে। সেখানে আবেদনপত্র পূরণ থেকে নথি জমা সমস্ত বিষয়ে সহায়তা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও, সরকারি আধিকারিকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করবেন। এই ফর্মের মাধ্যমে পরিবার সংক্রান্ত বিশদ তথ্য সংগ্রহ করবে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, আগামী ১ জুন থেকে শুরু হয়ে টানা ৯০ দিন ধরে চলবে।