পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক পদক্ষেপ করেই চলেছে নতুন সরকার। বিশেষ করে দুর্নীতি রুখতে সরকারি দফতরগুলিতে ঘুঘুর বাসা ভাঙতে তৎপর হয়েছে রাজ্য সরকার। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের পাশাপাশি সরকারি দফতরে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে তৎপর হয়েছে। এবার টানা ৩ বছর ধরে বদলি না হাওয়া পঞ্চায়েতের কর্মীদের বদলি করতে চলেছে রাজ্য সরকার। এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। 

বৃহস্পতিবার মৃত্তিকা ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

সেখানেই এই কথা জানান মন্ত্রী। সব মিলিয়ে ১১০০ কর্মীদের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকা জেলাশাসকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মূলত পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি রুখতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে দফতর। তবে শুধু বদলিই নয়, পঞ্চায়তে নিয়োগের আশ্বাসও দিয়েছেন মন্ত্রী। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কথায়, গোটা রাজ্যের পঞ্চায়েত স্তরে সবমিলিয়ে বর্তমানে শূন্যপদ রয়েছে ১১,১৫৪টি।
এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি শূন্যপদ আছে গ্রাম পঞ্চায়েতে। মন্ত্রী জানান, গ্রাম পঞ্চায়েতেগুলিতে মোট শূন্যপদ রয়েছে ৯,৯৩৬টি। এছাড়াও পঞ্চায়তে সমিতি ও জেলা পরিষদে যথাক্রমে শূন্যপদ রয়েছে ৬৬০টি এবং ৫৫৮টি। এরমধ্যে কত নিয়োগের অনুমোদন মিলেছে সে বিষয়টিও জানিয়েছেন মন্ত্রী। দিলীপ ঘোষ জানান, প্রাথমিকভাবে ৬,৫৩৬টি শূন্যপদে নিয়োগের অনুমোদন মিলেছে। যদিও কবে নিয়োগ হবে সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করেননি মন্ত্রী।
তিনি জানান, নিয়ম মেনে দ্রুত এই পদগুলিতে নিয়োগ শুরু হবে।

এছাড়াও দিলীপ ঘোষ এদিন জানান,  আগামী পয়লা জুলাই থেকে সারা দেশে নতুন কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রামীণ প্রকল্প চালু হতে চলেছে। জুন মাস পর্যন্ত বর্তমান ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় যোগ্য পরিবারগুলি জি রাম জি প্রকল্পের আওতায় বছরে ১২৫ দিন পর্যন্ত কাজের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় কর্মসংস্থান না পেলে আইন অনুযায়ী সুরক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় কেন্দ্র ও রাজ্য যথাক্রমে ৬০ ও ৪০ শতাংশ হারে বহন করবে। এরজন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আসতে শুরু করেছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।