পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গুজরাটের গির অরণ্যে একের পর এক সিংহের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে বন দপ্তর ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। গত কয়েক সপ্তাহে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে সাতটি সিংহের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাজ্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

বিশ্বে বন্য পরিবেশে এশীয় সিংহের শেষ আশ্রয়স্থল গির অরণ্য। এই অরণ্যেই বর্তমানে গোটা প্রজাতির প্রায় সব সিংহের বসবাস। ফলে সেখানে কোনো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়া গোটা প্রজাতির অস্তিত্বের উপর বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। বন দপ্তর সূত্রে খবর, মৃত সিংহগুলোর শরীরে ভয়াবহ সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে, একটি ছোঁয়াচে ভাইরাস এই মৃত্যুর কারণ হতে পারে। পাশাপাশি রক্তে বাসা বাঁধা এক ধরনের পরজীবী সংক্রমণের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। তবে পরীক্ষাগারের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাইছেন না বিশেষজ্ঞরা।

ইতিমধ্যেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৭টি সিংহকে আলাদা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকটির শরীরে সংক্রমণের চিহ্ন মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। আক্রান্ত প্রাণীদের চিকিৎসা ও নজরদারির জন্য পশুচিকিৎসকদের বিশেষ দল দিনরাত কাজ করছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল জরুরি বৈঠক করেছেন।

ওই বৈঠকে বন দপ্তরের আধিকারিকেরা জানান, আক্রান্ত অঞ্চলকে ঘিরে নির্দিষ্ট এলাকার সমস্ত সিংহের উপর নিবিড় নজরদারি চালানো হচ্ছে। আপাতত নতুন করে অন্য কোনো সিংহের মধ্যে একই ধরনের উপসর্গ ধরা পড়েনি বলেও জানানো হয়েছে।

গির সংলগ্ন আমরেলি ও ভাবনগর জেলাতেও সিংহদের দৈনিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বনকর্মীরা নিয়মিতভাবে এলাকায় ঘুরে প্রাণীদের আচরণ, শারীরিক অবস্থা এবং চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করছেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গির এলাকায় প্রায় ২৫০ জন বনকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে অভিজ্ঞ কর্মী ও আধিকারিকদের ডেকে আনা হয়েছে। তাঁদের অনেকেই আগে গিরে কাজ করেছেন।

তাই এলাকার পরিবেশ ও সিংহদের স্বভাব সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। জুনাগড়ের পশুচিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও এই অভিযানে যুক্ত হয়েছেন।

শুধু অসুস্থ সিংহদের চিকিৎসাই নয়, সংক্রমণ যাতে আরও না ছড়ায় সে দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গির অঞ্চলের শত শত সিংহের উপর প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি বাহ্যিক পরজীবী দূর করার কাজও শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা এটাও খতিয়ে দেখছেন, মৃত বা আক্রান্ত সিংহগুলোর আগে থেকে কোনো শারীরিক দুর্বলতা বা অসুস্থতা ছিল কি না। কারণ তেমন কিছু থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

গিরের এই পরিস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে পরিবেশপ্রেমী ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ মহলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত রোগ শনাক্ত করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। এখন সকলের নজর পরীক্ষার ফলাফলের দিকে।