পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: গাজা ভূখণ্ডের ওপর সামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে ৭০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইজরায়েলি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই এই রণকৌশলের কথা জানান। 

সম্মেলনে গাজা প্রসঙ্গে ইজরায়েলের বর্তমান সামরিক অবস্থান তুলে ধরে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা এই মুহূর্তে হামাসকে চারদিক থেকে চেপে ধরেছি। আপনারা সকলেই জানেন যে বর্তমানে গাজা ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ এলাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আগে আমরা ৫০ শতাংশে ছিলাম, সেখান থেকে ৬০ শতাংশে পৌঁছেছি। এখন আমার নির্দেশ হলো এই নিয়ন্ত্রণকে আরও বাড়ানো।” নেতানিয়াহুর এই কথার মাঝেই উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে একজন চিৎকার করে বলে ওঠেন, “১০০ শতাংশ!” জবাবে হাসিমুখে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন ধাপে ধাপে এগোই। সবার আগে আমাদের লক্ষ্য ৭০ শতাংশ।
আমরা তাদের চারদিক থেকে চেপে ধরছি এবং অবশিষ্ট হামাস যোদ্ধাদেরও নির্মূল করা হবে।”

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অধীনে যখন যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তখন ইজরায়েলি সেনারা একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা বা ‘হলুদ রেখা’-র পেছনে পিছিয়ে যেতে রাজি হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইজরায়েলের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা ছিল। কিন্তু নেতানিয়াহু এখন প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন যে ইজরায়েল ইতিমধ্যেই চুক্তি লঙ্ঘন করে ৬০ শতাংশ এলাকা কব্জা করেছে এবং তা ৭০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে যেখানে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইজরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল, সেখানে নেতানিয়াহুর এই আগ্রাসী নীতি শান্তি আলোচনাকে সম্পূর্ণ ভেস্তে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা।

কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি চললেও গাজার বাস্তব পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ভয়াবহ। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইজরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৩৮ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।