রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে তৃণমূলের অন্তর্কলহের জল্পনা। একের পর এক সাংসদ, কাউন্সিলর ও মুখপাত্রের পদত্যাগ, প্রকাশ্যে দলবিরোধী মন্তব্য এবং নেতাদের পারস্পরিক সংঘাত ঘিরে অস্বস্তি বাড়ছে জোড়াফুল শিবিরে। এই আবহেই তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদানের প্রসঙ্গে দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কোনও তৃণমূল নেতা যদি নিজের সম্পত্তি বাঁচানোর জন্য বিজেপিতে আসতে চান, তাহলে তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ। যাদের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছেন, যারা সমাজকে খোলা বাজারে পরিণত করেছে, তাদের দলে নিয়ে মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।” পাশাপাশি আগামী তিন মাস তৃণমূল বা অন্য দল থেকে বিজেপিতে যোগদান কার্যত বন্ধ রাখার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
এর আগে ‘ভালো তৃণমূল’ প্রসঙ্গে মন্তব্য করলেও, এদিন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আরও কড়া বার্তা দেন শমীক ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপি নিজেদের ভাবমূর্তি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিতে চাইছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে তৃণমূলের অন্দরে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে। কাকলি ঘোষদস্তিদার আগেই দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। এবার তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-র কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, সংসদের মধ্যেই তাঁকে একাধিকবার অপমান ও অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখে পড়তে হয়েছে।
আরও পড়ুন:
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নির্দিষ্ট দিন-তারিখ ছাড়া এভাবে অভিযোগ করা যায় কি না। একইসঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা না করার কারণও জানতে চান তিনি। এই বিতর্কের মধ্যেই কাকলির ছেলে চিকিৎসক বৈদ্যনাথ ঘোষদস্তিদার হাইকোর্টে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, এদিন তৃণমূলের মুখপাত্র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে পাঠানো চিঠিতে তিনি আর জি কর কাণ্ড, চাকরি বিক্রি ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে জানান, এই পরিস্থিতিতে দলের মুখপাত্র হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন:
একইসঙ্গে মুখপাত্রের পদ ছেড়েছেন কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়-ও প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেছেন, “যে দুর্নীতি হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে এই দল আর থাকবে না।”
তৃণমূল নেতা তথা মিজোরামের অ্যাডভোকেট জেনারেল বিশ্বজিৎ দেব-ও দাবি করেছেন, পঞ্চায়েত থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর কথায়, “এই দুর্নীতির সঙ্গে আপস না করায় দলে বঞ্চিত হয়েছি।”
আরও পড়ুন:
রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই বৃহস্পতিবার নিমতা থানার সামনে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়-কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে ক্রমেই আরও উত্তপ্ত হচ্ছে, তা বলাই যায়।