পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গরমের ছুটির পর বিদ্যালয় খুলতে চলেছে। তাই ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করাই স্কুল শিক্ষা দফতরের এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। সেই কারণে বিদ্যালয় খোলার আগেই একাধিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফে। গরমের ছুটি শেষে আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে ফের শুরু হচ্ছে পঠনপাঠন। তার আগে সমস্ত সরকারি, সরকার-পোষিত এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কড়া নির্দেশ জারি করল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর। স্কুল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার বিষয়ে রাজ্যের প্রতিটি জেলার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষিকাদের এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
৩১ মে-র মধ্যেই সমস্ত কাজ শেষ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর।আরও পড়ুন:
প্রবল গরম ও তাপপ্রবাহের কারণে এ বছর নির্ধারিত সময়ের আগেই গরমের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে সেই ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত করা হয়। ফলে ছুটি শেষ হতেই আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের স্কুলগুলি পুনরায় খুলে যাচ্ছে।দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের সমস্ত শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা এবং গোটা প্রাঙ্গণ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। বেঞ্চ, ডেস্ক, চেয়ার, টেবিল-সহ সমস্ত আসবাব ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথাও বলা হয়েছে।
বিদ্যালয় চত্বরে কোথাও আগাছা বা ঝোপঝাড় থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ, আলো, পাখা এবং কম্পিউটার ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন:
পানীয় জলের ব্যবস্থার উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছে শিক্ষা দপ্তর। বিদ্যালয়ে নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। জলাধার, জলের উৎস এবং ট্যাঙ্ক পরিষ্কার রাখার নির্দেশও দিয়েছে শিক্ষা দপ্তর। এছাড়া বিদ্যালয়ের শৌচালয় পরিষ্কার রাখা, নিকাশি ব্যবস্থা সচল রয়েছে কি না এবং কোথাও জল জমে আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
কোথাও জল জমে থাকলে দ্রুত তা সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন:
এসবের পাশাপাশি মিড ডে মিল পরিষেবাকে ঘিরেও একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রান্নাঘর, রান্নার সরঞ্জাম এবং খাবার পরিবেশনের জায়গা সম্পূর্ণ পরিষ্কার রাখতে হবে। গ্যাসের ব্যবস্থা ও অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। মিড ডে মিলের জন্য বিদ্যালয়ে খাদ্যশস্য মজুত থাকলে তার অবস্থাও খতিয়ে দেখতে হবে। শিক্ষা দপ্তর আরও জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের মতো অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিতে পারবে। মূল লক্ষ্য একটাই, বিদ্যালয় খোলার পর ছাত্রছাত্রীরা যেন সুস্থ, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পাঠগ্রহণ করতে পারে। দপ্তরের বক্তব্য, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।