পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অপরাধের ঘটনার তদন্ত শুরুর আগেই এফআইআর দায়ের! তাও আবার একটি সংবেদনশীল জঙ্গি মামলার ক্ষেত্রে। পুলিশের এমন পদ্ধতিগত গাফিলতি দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট। ২০১৯ সালের একটি অস্ত্র পাচার মামলায় ধৃত এক ট্রাক চালকের জামিনের শুনানি চলাকালীন এই চাঞ্চল্যকর অসঙ্গতিটি উচ্চ আদালতের নজরে আসে।

পুলিশি নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছে, নথিতে উল্লিখিত অপরাধটি ঘটার ঠিক ৭৫ মিনিট আগে থানায় এফআইআরটি নথিভুক্ত করা হয়েছিল।

মামলাটি ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের। জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার লাখানপুরে একটি ট্রাকে করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরিবহনের অভিযোগে সাবিল আহমদ বাবা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ধৃত সাবিলের জামিনের আবেদন শুনানির সময় বিচারপতি রাহুল ভারতী পুলিশের নিজস্ব রেকর্ড ও দিনলিপি উদ্ধৃত করে জানান, ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে লাখানপুর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল।

অথচ, নথিতে স্পষ্ট লেখা রয়েছে যে সাবিলের ট্রাক থেকে অস্ত্রশস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল ওই একই দিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে! অর্থাৎ, পুলিশ কীভাবে বা কোন তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারের ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট আগেই সরকারিভাবে এফআইআর দায়ের করে ফেলল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে আদালত। এই গুরুতর অসঙ্গতি থেকে হাইকোর্ট কোনওভাবেই চোখ ফিরিয়ে নিতে পারে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিচারপতি।

শুনানি চলাকালীন আদালত আরও একটি বড় গাফিলতি ধরে।

পুলিশ তাদের চূড়ান্ত রিপোর্টের সাথে মূল বা আসল এফআইআর-এর কপি জমা দেয়নি। তার বদলে প্রসিকিউশনের কাছ থেকে একটি অনুলিপি বা কপি এনে আদালতের রেকর্ডের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ জানিয়েছে, রেকর্ড অনুযায়ী লাখানপুর থানার মূল এফআইআরটি কাঠুয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ২০২০ সালের ১০ মার্চ জম্মুর এনআইএ আদালতের নির্দেশে সেটি অন্য দপ্তরে পাঠানোর কথা থাকলেও, সিজেএম আদালত থেকে আসল কপিটি আর পাওয়াই যায়নি। বাধ্য হয়ে হাইকোর্টকে তথ্য দেওয়ার জন্য প্রসিকিউশনের থেকে একটি কপি এনে ফাইলে যুক্ত করা হয়। এই সমস্ত ধোঁয়াশা ও গাফিলতির জবাব দিতে আগামী শুনানিতে মামলার তদন্তকারী অফিসারকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।