পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বক্সার জঙ্গলে আবার বাঘের গর্জন শোনাতে মরিয়া বন দপ্তর। দীর্ঘদিন বাঘশূন্য হয়ে থাকা এই বনাঞ্চলে ফের বাঘের স্থায়ী বসবাস গড়ে তুলতে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এবার প্রশ্ন উঠেছে কোথা থেকে আনা হবে বাঘ?
বন দপ্তর সূত্রে খবর, এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অসমকে। কারণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, একই ভৌগোলিক অঞ্চলের বন থেকে বাঘ আনা গেলে তারা নতুন পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে। জলবায়ু, বনভূমির চরিত্র এবং শিকারের ধরনে মিল থাকলে নতুন জায়গাকেও সহজে নিজের আবাস হিসেবে গ্রহণ করতে পারে বাঘ। সেই কারণেই অসমকে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
তবে প্রয়োজন হলে বিহারের বাল্মীকি সংরক্ষিত বন থেকেও বাঘ আনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যদিও বন দপ্তরের প্রথম পছন্দ এখনও অসমই। বিষয়টি নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি কর্তারা। তবে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল করতে হলে বাঘের উৎস নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারলেই বক্সায় তাদের স্থায়ী বসবাসের সম্ভাবনা বাড়বে। অতীতে অসম দিক থেকে বাঘ এই অঞ্চলে ঢোকার ঘটনাও নথিভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন বন মহলের একাংশ।সম্প্রতি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বক্সায় বাইরে থেকে বাঘ এনে পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোরকদমে।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই উদ্যোগ আরও গতি পেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ আগে এমন পরিকল্পনা থাকলেও অন্য রাজ্যের সম্মতি না মেলায় তা এগোয়নি বলে বন দপ্তরের একাংশের দাবি। এবার দুই রাজ্যের প্রশাসনিক সমন্বয় থাকায় কাজ সহজ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।উল্লেখযোগ্যভাবে, আলিপুরদুয়ারের বক্সা সংরক্ষিত বন ১৯৮২ সালে দেশের অন্যতম বাঘ সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। একসময় এখানে দুই ডজনের কাছাকাছি বাঘের উপস্থিতির রেকর্ড ছিল। পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বন ধীরে ধীরে বাঘহীন হয়ে পড়ে। বর্তমানে সেখানে স্থায়ীভাবে কোনও বাঘের অস্তিত্ব নেই।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভুটানের দিক থেকে কয়েকটি বাঘের যাতায়াত নজরে এসেছে।
বন দপ্তরের নজরদারি যন্ত্রে সেই ছবি ধরা পড়েছে। সেই কারণেই নতুন করে আশা জেগেছে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা গেলে বক্সায় আবার বাঘের স্থায়ী আবাস গড়ে উঠতে পারে। এই পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে দুই বাঘিনী ও একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘকে আনার ভাবনা রয়েছে। তাদের প্রথমে নির্দিষ্ট সুরক্ষিত ঘেরাটোপে রাখা হবে। সেখানে কিছুদিন পর্যবেক্ষণের পর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। তাদের চলাফেরা ও স্বাস্থ্যের উপর সারাক্ষণ নজর রাখতে বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে।বন দপ্তর ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ঘেরা এলাকা তৈরির কাজ শেষ করেছে। সেখানে বাঘের খাদ্যের জন্য হরিণও ছাড়া হয়েছে। সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। এখন শুধু বাঘ আনার অপেক্ষা। সব পরিকল্পনা মতো এগোলে বহু বছরের নীরবতার পর বক্সার জঙ্গলে আবারও ফিরতে পারে বাঘের রাজত্ব।