কুম্ভমেলায় ভাইরাল হওয়া মোনালিসা ভোঁসলে ও তাঁর স্বামী মহম্মদ ফরমানের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কেরল হাইকোর্ট। আদালত প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, মোনালিসা প্রাপ্তবয়স্ক বলেই মনে হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর স্বামী ফরমানকে এক মাসের ট্রানজিট জামিনও মঞ্জুর করা হয়েছে।
গত মার্চ মাসে মহম্মদ ফরমানের সঙ্গে বিয়ে করেন মোনালিসা। এরপর মোনালিসার বাবা অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেন, বিয়ের সময় তাঁর মেয়ে নাবালিকা ছিল এবং তাকে অপহরণ করা হয়েছে।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা শুরু হয়।

বুধবার মামলার শুনানিতে কেরল হাইকোর্টের বিচারপতি কৌসর ইডাপ্পাগথ জানান, জমা দেওয়া জন্ম শংসাপত্র অনুযায়ী মোনালিসার জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ২০০৮। ফলে প্রাথমিকভাবে তাঁকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। আদালত আরও জানায়, জন্ম শংসাপত্রের পাশাপাশি ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবুক এবং বিবাহ সংক্রান্ত হলফনামাও জমা দেওয়া হয়েছে, যা আবেদনকারীর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার দাবিকে সমর্থন করছে।
মধ্যপ্রদেশ পুলিশের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন ভারতের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস. ভি. রাজু।

তিনি দাবি করেন, মোনালিসার পক্ষ থেকে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত এই মুহূর্তে সেই দাবি গ্রহণ করেনি এবং জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।
একই সঙ্গে আদালত ফরমানকে এক মাসের ট্রানজিট জামিন দিয়েছে। নির্দেশে বলা হয়েছে, এই সময়সীমার মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। এর ফলে তিনি মধ্যপ্রদেশের উপযুক্ত আদালতে গিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করতে পারবেন।

মোনালিসা ও ফরমান সম্প্রতি কেরল হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে দাবি করেছিলেন, মধ্যপ্রদেশে তাঁদের প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। আন্তঃধর্মীয় বিবাহের কারণে মৌলবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে রয়েছেন বলেও তাঁরা আদালতকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি, গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকলে আইনগত সহায়তা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়।
আদালতের এই নির্দেশে আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেলেন মোনালিসা ও ফরমান। তবে মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলবে।