পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অসমের বিশ্বনাথ জেলায় এক ১৫ বছর বয়সী নাবালিকাকে চলন্ত গাড়িতে মাসের পর মাস ধরে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। গত সপ্তাহে পুলিশ ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করার পর এই অমানিসক নির্যাতনের কথা প্রকাশ্যে আসে। বিশ্বনাথ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপ্তি মালি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিশ্বনাথ চারিআলি থানা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা একটি সন্দেহভাজন গাড়িকে আটকে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করেন।
তিনি বলেন, "স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাড়ির ভেতরে ওই নাবালিকা এবং অন্য আরোহীদের আপত্তিকর ও অর্ধনগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে উদ্ধার হওয়া নাবালিকাটি পুলিশের কাছে জবানবন্দি দেয়, চলন্ত গাড়ির ভেতরে একাধিক ব্যক্তি জোরপূর্বক তাকে বারবার গণধর্ষণ করেছে।"আরও পড়ুন:
নির্যাতিতা নাবালিকা পুলিশকে জানিয়েছে, মাসের পর মাস ধরে তার ওপর এই অমানুষিক অত্যাচার চালানো হচ্ছিল। বেশ কয়েক মাস আগে, দু'জন ব্যক্তি তাকে খাবারের লোভ দেখিয়ে গাড়িতে তুলে নেয়।
গাড়ির ভেতরে আগে থেকেই আরও দুই থেকে তিন জন উপস্থিত ছিল। গাড়িতে তোলার পর থেকেই তার ওপর শুরু হয় পাশবিক অত্যাচার। এরপর থেকে দিনের পর দিন চলন্ত গাড়িতেই তাকে গণধর্ষণ করা হতো।আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, ধৃত ৫ অভিযুক্তকে গত ৩০ মে স্থানীয় আদালতে পেশ করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শিশুদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন বা পকসো (POCSO) আইনের ৬ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, অপরাধের কাজে ব্যবহৃত ওই গাড়িটিকে ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে নির্যাতিতা নাবালিকা ও তার পরিবার। তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা ধৃতদের অবিলম্বে এবং দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির মতো কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।।