পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালেও বদলাল না দিল্লির সেই চেনা অভিশপ্ত ছবিটা। চলন্ত বাসের ভেতর ফের এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল দিল্লিতে। এই পাশবিক ঘটনা আবারও একযুগ আগের সেই নারকীয় ‘নির্ভয়া’ কাণ্ডের স্মৃতি উসকে দিয়েছে। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত বাসচালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, দু’দিন আগে দিল্লির রানিবাগ এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।

নির্যাতিতা ওই তরুণী বিবাহিতা এবং তিন সন্তানের জননী। সোমবার রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে সরস্বতী বিহার বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি প্রাইভেট বাসে উঠেছিলেন তিনি। অভিযোগ, বাসে ওঠার পরেই তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে চালক ও খালাসি। সারারাত ধরে চলন্ত বাসের মধ্যে চলে নারকীয় অত্যাচার। ভোরের দিকে তাঁকে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

অচৈতন্য অবস্থা থেকে কিছুটা ধাতস্থ হয়েই পুলিশের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সক্রিয় হয় দিল্লি পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং নির্যাতিতার বয়ানের ভিত্তিতে দ্রুত তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্ত চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যে বাসটির মধ্যে এই জঘন্য অপরাধ ঘটেছে, সেটিকেও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, তদন্ত এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

ঘটনাস্থল সনাক্তকরণ এবং বাসের সঠিক রুট ম্যাপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেডিক্যাল ও ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছে, বর্তমানে নির্যাতিতার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। তাঁকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লির বুকেই ঘটেছিল নির্ভয়াকাণ্ড, যা স্তব্ধ করে দিয়েছিল গোটা দেশকে। তার পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও, দেশের রাজধানীতে চলন্ত বাসে নারী নিগ্রহের এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি।