পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ কর্ণাটকের ১৮ তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুধবার শপথ নিয়েছেন ডিকে শিবকুমার। তাঁর সঙ্গে শপথ নিয়েছেন আরও ১৩ জন মন্ত্রী। সেই তালিকায় রয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও ম্যাঙ্গালোরের বিধায়ক ইউটি খাদের। কর্ণাটকের নতুন মন্ত্রীসভায় তিনিই একমাত্র মুসলিম প্রতিনিধি। এদিন কর্ণাটকের লোক ভবনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন খাদের। এর আগে তিনি ছিলেন কর্ণাটক বিধানসভার স্পিকার। নিয়ম মেনেই স্পিকার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর খাদের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। 

মন্ত্রী পদের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইউ টি খাদের বলেন, 'আমি কোনো দপ্তর দাবি করিনি। তবে আমি স্বাস্থ্য দপ্তর অথবা আবাসন দপ্তর পেতে চাই।

নেতারা যে কোনো দায়িত্ব দিলে আমি তা পালন করব।' উল্লেখ্য, তিন বছর ধরে কর্ণাটক বিধানসভার স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন খাদের। স্পিকার হিসেবে তাঁর তিন বছরের কার্যকালে সহযোগিতার জন্য রাজ্যপাল থাওয়ার চাঁদ গেহলটকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। 

'সম্প্রীতির দূত' হিসেবে পরিচিত ইউটি খাদের সকল জাতি-ধর্মের মানুষের কাছেই জনপ্রিয়। ১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর উপ্পালার থুরথিতে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন খাদের। তিনি উল্লাল কেন্দ্রের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক প্রয়াত হাজী ইউটি ফরিদের পুত্র। কংগ্রেসের টিকিটে উল্লাল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে চারবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ফরিদ। তিনি চারবারই বিধায়ক নির্বাচিত হন।

বিএ এবং এলএলবি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন ইউটি খাদের।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এর পাশাপাশি সমাজসেবার কাজেও নিজেকে নিযুক্ত করে। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এনএসইউআই দক্ষিণ কন্নড় জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ১৯৯৪ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এনএসইউআই জেলা সভাপতি, ২০০০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এনএসইউআই রাজ্য সহ-সভাপতি, ২০০১ সালে উল্লালা যুব কংগ্রেসের সভাপতি এবং ২০০২ সালে সর্বভারতীয় কংগ্রেস সেবা দলের প্রশিক্ষক ছিলেন। এছাড়াও তিনি কর্ণাটক রাজ্য কংগ্রেসের সম্পাদক, রাজ্য সেবা দলের অতিরিক্ত প্রধান সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অল্প বয়সেই আরও অসংখ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 

বাবা হাজী ইউটি ফরিদ ২০০৭ সালে ইন্তেকালের পর উল্লালা বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়। তখন কংগ্রেস ইউটি খাদেরকে সেই আসনে প্রার্থী করে। ২০০৭ সালের সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইউটি খাদার প্রথমবারের মতো বিধায়ক হন।

যদিও বিধায়ক হিসেবে তাঁর প্রথম মেয়াদ ছিল মাত্র কয়েক মাসের। সেই স্বল্প সময়েই তিনি মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এরপর ২০০৮, ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালে পরপর চারটি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হন। টানা ৫ বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। 

এছাড়াও, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত খাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী এবং ২০১৮ সালে আবাসন মন্ত্রী ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। খাদের ২০২০ সালে কেপিসিসি-র মুখপাত্র ছিলেন। এছাড়াও, ২০২২ সালে কর্ণাটক বিধানসভায় বিরোধী দলের উপনেতা হন। বিধানসভায় সর্বাধিক সংখ্যক প্রশ্ন উত্থাপন করে তিনি জনগণের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার প্রমাণ করেন। এর জন্য 'সদন বীর' পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ করে তিনি পঞ্চমবারের মতো বিধানসভায় পুনরায় নির্বাচিত হন। এরপর তাঁকে কর্ণাটক বিধানসভার স্পিকার করা হয়।