পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিহারের সিওয়ান জেলায় ২৫ বছর বয়সী শাহজাদ আলীকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় আরও চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নিয়ে এই নৃশংস গণপিটুনির মামলায় মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হলো। তবে এই ঘটনার তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পুলিশের চরম গাফিলতি। অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেও উন্মত্ত জনতার হাত থেকে ওই যুবককে বাঁচানোর কোনো চেষ্টাই করেনি, যার ফলে শাহজাদের মৃত্যু হয়।

গত ৩০ মে বড়হারিয়া থানা এলাকার শিবরাজপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।

নিহত শাহজাদ আলীর স্ত্রী মবিনা খাতুনের দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, ৩০ মে একদল গ্রামবাসী জোরপূর্বক তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়ে শাহজাদকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে একটি গাছের সাথে বেঁধে লাঠি, লাথি ও কিল-ঘুষি মেরে নির্মমভাবে অত্যাচার করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাঁর মৃত্যু হয়। মবিনা খাতুন আরও অভিযোগ, মারধরের সময় শাহজাদের কাছে থাকা ৫,০০০ টাকাও কেড়ে নেয় হামলাকারীরা। এই ঘটনায় বড়হারিয়া থানায় অমিত চৌধুরী ওরফে অবধেশ চৌধুরী, প্রমেন্দ্র মাঝি, ছত্তু মাঝি, অবধ কিশোর চৌধুরী, গুড্ডু মাঝি, রঞ্জন চৌধুরী এবং মন্টু কুমারসহ ৭ জন নামধারী এবং বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

সিওয়ানের পুলিশ সুপার মামলার পর্যালোচনার পর জরুরি পরিষেবা 'ডায়াল-১১২'-এর কর্মীদের বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছেন। জানা গেছে, ৩০ মে সাব-ইন্সপেক্টর সঞ্জীব কুমার খবর পেয়েছিলেন যে শিবরাজপুর গ্রামে গ্রামবাসীরা এক 'সন্দেহভাজন চোর'কে আটকে রেখেছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পরিবর্তে, তিনি শাহজাদকে ওই উত্তেজিত জনতার মাঝেই ফেলে রেখে চলে আসেন। এর পরেই জনতা তাঁকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। কর্তব্যে গাফিলতির দায়ে সাব-ইন্সপেক্টর সঞ্জীব কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর সাথে থাকা দুই হোমগার্ড নন্দজী যাদব ও মুক্তিনাথের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে এবং বড়হারিয়া থানার এসএইচও ছোটন কুমারের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে।