পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিহারে মদের উপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার এক দশক পূর্ণ হয়েছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় এই দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে,  সিদ্ধান্তের কিছু ইতিবাচক ফল মিললেও তার পাশাপাশি একাধিক নতুন সমস্যাও সামনে এসেছে। ফলে মদ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। 

২০১৬ সালে নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় বিহারে মদ তৈরি, বিক্রি, সংরক্ষণ ও পান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। সরকারের লক্ষ্য ছিল মদ্যপানের প্রবণতা কমিয়ে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি, পারিবারিক আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং গার্হস্থ হিংসা কমানো। নীতিশের সরকারের সেই সিধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন রাজ্যের বহু নারী। পঞ্চম জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা (২০১৯-২১)-এর তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার কয়েক বছরের মধ্যেই বিহারে মদ্যপানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

পাশাপাশি একটি গবেষণা পত্রে উল্লেখ করা হয়, পুরুষদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ,  ডায়াবিটিস ও অতিরিক্ত ওজনের সমস্যাও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। গর্ভবতী নারীদের উপর পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনাও আগের তুলনায় কমেছিল। তবে সাম্প্রতিক সমীক্ষার ফল অন্য একটি বাস্তবতার দিকেও ইঙ্গিত করছে। 

২০২৩-২৪ সালের সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, বৈধ মদের বাজার বন্ধ হওয়ার পর অবৈধ মদের কারবার বেড়েছে। অনেকেই বেশি দামে নিম্নমানের ও বিপজ্জনক মদ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, মদ নিষেধের পর অন্য নেশার পথে ঝুঁকছেন বহু মানুষ। বিশেষ করে তামাক, গাঁজা প্রভৃতির নেশা বেড়েছে।

আর তারফলে গ্রামের মানুষের খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। 

এদিকে, সমীক্ষা অনুযায়ী, মদ নিষিদ্ধ করার পর বিহারে গার্হস্থ্য হিংসার হার কমলেও তা এখনও জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গার্হস্থ্য হিংসার জাতীয় গড় যেখানে ২২ শতাংশ সেখানে বিহারে এই হার এখনও ৩৬ শতাংশ রয়েছে। 

অন্যদিকে, মদে নিষেধাজ্ঞার ফলে অর্থনৈতিক দিক থেকেও বিহারকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আগে মদ বিক্রি থেকে রাজ্যের যে বিপুল রাজস্ব আসত, তা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মদ থেকে ২০১৫-১৬ সালে বিহারের রাজস্ব ছিল তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি। সেই জায়গায় ২০১৬-১৭ সালে তা নেমে আসে মাত্র ত্রিশ কোটি টাকায়।

যদিও অন্য উৎস থেকে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করে বিহার সরকার। কিন্তু তারপরেও সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি অবৈধ মদ সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক মামলার চাপ বেড়েছে আদালত ও প্রশাসনের উপর। প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি মামলা ঝুলে রয়েছে, যা অতিরিক্ত বোঝা বলেই মনে করছেন প্রশাসনের আধিকারিকদের একাংশ। 

তবুও নিষেধাজ্ঞার যে সুফল উঠে এসেছে তা অস্বীকার করা যায় না। অনেকেই মদের পিছনে অতিরিক্ত অর্থ অপচয় করতেন। কিন্তু মদ বন্ধের ফলে সেই অর্থ এখন সন্তানদের পড়াশোনা, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় খাতে বেশি খরচ করা সম্ভব হচ্ছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় মেয়েরা জানিয়েছেন, সংসারে অশান্তিও আগের তুলনায় কমেছে।